পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে রোনালদো।
পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কোচ জর্জে জেসুস। আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে বারবার রোনালদোর অবসরের প্রসঙ্গ ওঠায় কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। তবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রোনালদোর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি কোনোভাবেই দায়ী নন।
জেসুসের মতে, রোনালদোর বিদায়ের বিষয়টি হয়ত কিছুটা দ্রুত ঘটে গেছে। তবে একসময় যে এমন সিদ্ধান্ত আসবে, তা স্বাভাবিক ছিল। নিজের কোচিংয়ের সময়েই ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি অনুতপ্ত নন। বরং রোনালদোর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি পর্তুগিজ ফুটবলে তার অসামান্য অবদানকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পর্তুগাল কোচ বলেন, রোনালদোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মাঠের বাইরেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও রোনালদো পর্তুগালের ফুটবলের অন্যতম বড় প্রতীক হয়ে থাকবেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে তার প্রভাব ও অনুপ্রেরণা কখনোই মুছে যাওয়ার নয়।
এর আগে জাতীয় দলের সর্বশেষ ক্যাম্পে জায়গা না পাওয়ার পর রোনালদোকে নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এবারও তাকে দলে ফেরানোর প্রত্যাশা করেছিলেন জেসুস। এমনকি তার সঙ্গে কথা বলার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোনালদো নিজেই জাতীয় দল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেটিকে মেনে নিয়েছেন কোচ।
রোনালদোর সঙ্গে যোগাযোগ না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেসুস জানান, এই সিদ্ধান্ত যেকোনো সময়ই আসতে পারত। তার চার বছরের কোচিং মেয়াদে (২০৩০ সাল পর্যন্ত) রোনালদোর বিদায়ের ঘটনা কোনো না কোনোভাবে ঘটতই। নেশন্স লিগ চলাকালীন হোক কিংবা অন্য কোনো সময়ে, নিজের উপযুক্ত মুহূর্ত বিবেচনা করেই রোনালদো সরে দাঁড়াতেন বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে ঘোষিত পর্তুগাল দলে জায়গা পেয়েছেন সাতজন নতুন ফুটবলার। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ডাক পেয়েছেন আলবার্তো কস্তা, গুস্তাভো ভারেয়া, অ্যান্তনিও সিলভা, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ, কার্লোস ফর্বস, রদ্রিগো মোরা ও জিওভানি কুয়েন্দা। জেসুসের বিশ্বাস, ক্লাব পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তারা জাতীয় দলে সুযোগ অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন আগে অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছেন।
সবশেষে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পর্তুগিজ কোচ। তার ভাষ্য, দলের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। রোনালদোর প্রতি ব্যক্তিগত কোনো অসন্তোষ বা ক্ষোভ নেই। একজন কোচ হিসেবে দলের জন্য যেটি সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে, সেটিই করেছেন তিনি। আর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনাও নেই।






