শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

দীর্ঘ ৯ বছর পর উন্মুক্ত ওসমানী উদ্যান, কী আছে সেখানে

দীর্ঘ ৯ বছর পর উন্মুক্ত ওসমানী উদ্যান, কী আছে সেখানে...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১:৪০ পিএমসর্বশেষ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১:৪০ পিএম
দীর্ঘ ৯ বছর পর উন্মুক্ত ওসমানী উদ্যান, কী আছে সেখানে

প্রায় নয় বছর ধরে নির্মাণকাজের আড়ালে ঢাকা পড়ে ছিল ওসমানী উদ্যান। চারপাশ ভরা ছিল বড়-ছোট নির্মাণ সামগ্রীতে, ফটকে ঝুলত তালা, আর উদ্যানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। স্থানীয় বাসিন্দারা যখনই জানতে চাইতেন, উদ্যানটি কবে খুলবে, উত্তর মিলত ঘুরে ফিরে একটাই—উন্নয়নকাজ চলছে।

অবশেষে খুলেছে উদ্যানের ফটক, প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণের পর। তবে একটি প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে: ঢাকা কি তার প্রিয় সবুজ উদ্যানটিই ফিরে পেয়েছে? নাকি কংক্রিট, নতুন স্থাপনা আর স্মৃতিস্তম্ভের আড়ালে হারিয়ে গেছে এর অনেক বৈশিষ্ট্য?

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন ওসমানী উদ্যানটি বাংলাদেশ সচিবালয় ও নগর ভবনের মাঝখানে অবস্থিত। আর এখানেই সংযোগ হয়েছে পুরান ঢাকা সঙ্গে নতুন ঢাকার। কয়েক দশক ধরে গুলিস্তানের যানজট, দোকানপাট ও মানুষের ভিড় থেকে নগরবাসীকে স্বস্তির পরিসর দিয়ে এসেছে এই উদ্যানের গাছপালা, সবুজায়ন।

গত ১৯ অক্টোবর সংস্কারকৃত উদ্যান ও এর ভেতরে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন এটি খুলে দেওয়া হয় জনসাধারণের জন্য।

পুলিশ সদর দপ্তরের বিপরীতে প্রধান প্রবেশপথ। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে কংক্রিটের নকশায় ইংরেজি ‘২৪’-এর অবয়ব। নতুন দুটি ফটকের সঙ্গে বদলে গেছে ভেতরে ঢোকার ব্যবস্থাও।

প্রধান ফটক পেরোলেই বাঁয়ে জলাশয়, সামনে ফোয়ারার অংশ। গাছের ফাঁক দিয়ে চলে গেছে বাঁধানো পথ। জলের ধার বরাবর হাঁটা, কোথাও বসে থাকা, কোথাও উঁচু জায়গা থেকে নিচের সবুজ দেখা—নতুন নকশায় চলাচলের একাধিক ধরন রাখা হয়েছে। পুরোনো উদ্যানের তুলনায় পথ ও বসার জায়গাগুলো অনেক বেশি পরিকল্পিত।

বাইতুল মোকাররমে নামাজ পড়ার পর এ উদ্যানের সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করতে এসেছেন ৩৮ বছর বয়সী পুরান ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা মো. সিরাত হোসেন।

‘বিকেল হলেই বাবা মায়ের সঙ্গে এই পার্কে চলে আসতাম। বাবা-মা গাছের নিচে বসে থাকত, আমি আর আমার ভাই সাইকেল চালাতাম, ফুটবল খেলতাম। কখনও কখনও অন্যদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম,’ বলেন তিনি।

সিরাত বলেন, ‘তখন এই পার্কটি এত গোছানো ছিল না। সবখানে গাছ ছিল। আমাদের মতো পুরান ঢাকাবাসীর কাছে এই পার্ক ছিল অক্সিজেন হাব।

একদিন কলেজে যাওয়ার সময় হঠাৎ তিনি দেখেন টিনের বেড়া, লেখা—উন্নয়ন কাজ চলমান। তখনো ভাবেননি, ওসমানী উদ্যানের দরজা আবার খুলতে এত সময় লেগে যাবে।

‘এরপর প্রায় একদশক পর খুলল। অনেক কিছু এর মধ্যে বদলে গেছে। আমার বাবা-মা মারা গেছেন, ছোট ভাই দেশের বাইরে। পার্কেও অনেক পরিবর্তন কিন্তু স্মৃতির দৃশ্যপটে আমার কাছে এ পার্ক এখনও আশীর্বাদ মনে হয়,’ যোগ করেন তিনি।

এ উদ্যান নতুন করে শিশুদের শৈশব রঙিন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নাম বহনকারী উদ্যানটি মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের স্মৃতি ধরে রাখতে ১১ ভাগে বিন্যস্ত ছিল। সবুজের সমারোহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ছিল খোলা গাছপালার বিস্তার, দুটি ছোট লেক, বালুর দ্বীপ, হাঁটার রাস্তা, ভাস্কর্য এবং মিলনায়তনের মতো স্থাপনা।

আর ছিল ঢাকার ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী নিদর্শন—মোগল আমলের বিশাল কামান ‘বিবি মরিয়ম’। ঢাকার প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত এই কামান একসময় পুরান ঢাকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আশির দশকে ওসমানী উদ্যানে আসে। বহু বছর ধরে মূল ফটকের কাছে এটিই ছিল দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অনুষঙ্গ। কামানটি এখন আর সেখানে নেই। ২০২৪ সালে সংস্কার করা ঐতিহাসিক ঢাকা গেটের পাশে কামানটি স্থানান্তর করা হয়েছে।

সব সময় অবশ্য উদ্যানটি জনগণের কাছে স্বস্তির জায়গা ছিল না। ২০০০-এর দশকের শুরুতে দখল, অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড, অবৈধ দোকান, মাদকসেবন এবং নিরাপত্তাহীনতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় নাগরিকদের।

২০০৪ সালে নগর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশবিদ ও নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে উদ্যান রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৫ সালে নতুন করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়। পূর্ব পাশে কৃত্রিম লেক, পুরোনো পুকুরের সংস্কার, সীমানার বেড়া, গাছ লাগানো এবং হাঁটার রাস্তা সেই পর্যায়ের কাজের অংশ। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার হাঁটার পথ জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

এবারের সংস্কার কাজের ফলে উদ্যানের ঐতিহাসিক পরিচয়ে আরেকটি অধ্যায় যোগ হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক একর জায়গা নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রায় ৯০ ফুট উচ্চতার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ৮৩৪ জনের নাম ধাতব পাতে লেজার দিয়ে খোদাই করা হয়েছে; সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন ও চব্বিশের জুলাই—বিভিন্ন সময়কে এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে নকশায়।

তবে স্মৃতিস্তম্ভ ও ঐতিহাসিক স্থাপনার গুলোর বাইরেও উদ্যানটিকে সেই সহজ উদ্দেশ্য পূরণ করতে হবে, যে কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নগরবাসী একে মূল্যবান মনে করে এসেছেন; গাছের ছায়ায় হাঁটাচলা, বিশ্রাম ও কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর একটি জায়গা।

আগের সেই পরিচিত উদ্যানও এবার অনেকটাই বদলে গেছে।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে নতুন ও সংস্কার করা মিলিয়ে উদ্যানে পথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার। দুই স্তরের নকশার একটি অংশে সমতল থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচুতেও চলাচলের পথ রয়েছে।

মাটির বদলে সড়কগুলো এখন কংক্রিটের। মূল ফটক থেকে সামনে এগোতেই চোখে পড়ে লম্বা কংক্রিটের পথ। জলাশয়ের মধ্যে কয়েকটি গোলাকার কংক্রিটের কাঠামো, মাঝখানে মাটি, তাতে গাছ; চারদিকে পানি। কোথাও গাছের ভেতর দিয়ে হাঁটার সরু অংশ, কোথাও তুলনামূলক প্রশস্ত বাঁধানো চত্বর; হাঁটার পথের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেঞ্চ ও বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা।

পুরোনো জলাশয় সংস্কার এবং নতুন জলাধার তৈরির কথাও জানিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। সরকারি উদ্বোধনী বিবরণে পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণের উল্লেখ আছে। জলাশয়ের এই আয়োজনের পূর্ণ সৌন্দর্য অবশ্য পানির ওপর নির্ভরশীল।

পার্কের বিভিন্ন স্তর, গাছ ও স্থাপনা একসঙ্গে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গ্রন্থাগার, ব্যায়ামাগার, নগর জাদুঘর, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, দোকান ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আছে শিশুদের খেলার ব্যবস্থা, ইনডোর গেমসের জন্য আলাদা এলাকা।

৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নতুন আলো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জলাশয়ের পাশে চলাচলের সুযোগও যুক্ত হয়েছে। তবে উদ্বোধনের পর সরেজমিনে দেখা যায়, এখনো সব কাজ শেষ হয়নি। ডিএসসিসি জানিয়েছে, এতে আরও মাস দুয়েকের মতো সময় লাগতে পারে।

নতুন স্থাপনার ভিড়েও ওসমানী উদ্যানের মূল পরিচয়—গাছ। এখানে রয়েছে আম, জামরুল, কদবেল, তেঁতুল, গাব, মেহগনি, অর্জুন, স্বর্ণচাপা ও সোনালুর মতো গাছ। যদিও গাছ ও এই সবুজের সমারোহ অনেকটাই কংক্রিটের ভীড়ে হারিয়ে গেছে।

এখানকার পুরোনো গাছগুলোর অনেকগুলো কেটে ফেলা হয়েছে একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য। তবে কিছু রয়ে গেছে। পার্কটির বিশেষত্ব বুঝতে হলে তাই কংক্রিটের নতুন পথ থেকে কিছুক্ষণের জন্য নজর ফেরাতে হয় পুরোনো গাছের দিকে।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে এই গাছগুলোকে ঘিরেই নাগরিক আন্দোলন হয়েছিল। ওসমানী উদ্যানে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলে প্রায় ১১ হাজার গাছ রক্ষার দাবিতে সরব হন পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, লেখক ও নাগরিকরা। কবি শামসুর রাহমানসহ বিশিষ্টজনরা প্রতিবাদে যুক্ত হন। আন্দোলনের মুখে সম্মেলন কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাদ পড়ে।

‘পুরান ঢাকার ফুসফুস’ পরিচয়টি তখন থেকেই উদ্যানটির সঙ্গে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে যায়।

প্রকল্প উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সময় প্রকৃতি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেকোনো নির্মাণ প্রকল্পে প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। মানুষ ও দেশের প্রয়োজন মেটাতে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও প্রকৃতি রক্ষা করা জরুরি। শেষ পর্যন্ত এর সুফল মানুষই পাবে।

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, গ্রন্থাগার, উদ্যান ও পুরো চত্বরকে তিনি জনগণের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন। পার্কটি পরিষ্কার রাখা ও এর পরিবেশ সুরক্ষায় নাগরিকদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

২০১৭ সালের শেষদিকে পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার মাধ্যমে উদ্যানটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ উদ্বোধনের সময় প্রায় ১০ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু একের পর এক সময়সীমা পেরিয়ে যায়।

২০২১ সালে (ডিএসসিসি কর্মকর্তারাসংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নকশা সংশোধন, কোভিড-১৯ মহামারি ও সরকারি বরাদ্দ পেতে দেরির কারণে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

২০২২ সালে কাজের অগ্রগতি ও চুক্তির শর্ত পালনে কথিত সমস্যার কারণে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্সের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পিএফ করপোরেশনকে কাজ দেওয়া হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যায়।

কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যায়। শুরুতে ৫৪ কোটি থেকে ৫৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হলেও তা বেড়ে ৮৬ কোটি থেকে ৮৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মূল পুনঃউন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৮ কোটি টাকা।

এদিকে, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও দুটি নতুন ফটক নির্মাণের জন্য নেওয়া পৃথক প্রকল্পের ব্যয় ৪৬ কোটি টাকা থেকে সংশোধন করে ৩৯ কোটি টাকা করা হয়। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা।

এরপরও অনেক দর্শনার্থীর কাছে উদ্যানটি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি স্বস্তির। অবশ্য এর নতুন রূপ নিয়ে সবার মত এক নয়।ফেসবুকে ওসমানী উদ্যান খোলার খবর পেয়ে স্ত্রী রুবি ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মেহরাবকে নিয়ে গোপীবাগ থেকে এসেছেন আফজাল হোসেন।

সংস্কার করা পার্কে হাঁটতে হাঁটতে শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যান তিনি। নতুন পার্কের সঙ্গে নিজের ছোটবেলায় দেখা পার্কটির তুলনা করতে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে সবুজ অনেক কমে গেছে, গাছও কম।

কাদামাখা পথ ধরে ফুটবল খেলা এবং কখনো কখনো বন্ধুদের সঙ্গে সারা দিন কাটাতে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার স্মৃতিচারণ করেন। ‘এখন ছেলেকে নিয়ে এখানে এসেছি। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে?’, বলেন তিনি।

শিশুদের জন্য আবার একটি খোলা জায়গা ফিরে পেয়ে খুশি রুবি। তার মতে, পার্কের রক্ষণাবেক্ষণে কাজে লাগলে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য যুক্তিসংগত।

টিকাটুলি থেকে আসা মুক্তা বেগমও একইরকম স্বস্তির কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে পারি, ঢাকায় এমন খোলা জায়গা প্রায় নেই। এখানে আসতে আমাদের টাকা দিতে হচ্ছে, তবে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও বন্দিজীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি।

তবে সবাই এই প্রবেশমূল্যকে স্বাগত জানাননি।

তোপখানা রোডের বাসিন্দা সারওয়ার মৃধা প্রশ্ন তোলেন, একটি সরকারি পার্কে প্রবেশের জন্য মানুষকে কেন টাকা দিতে হবে?

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে যারা হাঁটতে আসবেন, তাদের মাসে ৩০০ টাকা খরচ করতে হবে। পার্ক তো অলাভজনক জনসেবামূলক একটি জায়গা। তাহলে আমাদের এত টাকা দিতে হবে কেন?

তার এই প্রশ্ন উদ্যানের পুনঃউন্নয়ন ঘিরে আরেকটি উদ্বেগের দিক তুলে ধরে। নতুন করে সাজানো পার্কটি যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্য সহজলভ্য থাকবে তো?

প্রায় নয় বছর পর ওসমানী উদ্যান আবার নগরবাসীর জন্য খুলেছে। তবে ডিএসসিসির প্রকৃত পরীক্ষা এখনই শুরু। বাকি কাজ শেষ করা, উদ্যানটি পরিষ্কার ও সবুজ রাখা এবং সবার জন্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এখন চ্যালেঞ্জ।

ওসমানী উদ্যান ফিরে পেতে ঢাকাবাসীকে প্রায় এক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—যে গাছপালা, খোলা জায়গা ও প্রতিদিনকার স্বাধীন সময় কাটানোর জন্য এই অপেক্ষা, তা শহরটি ধরে রাখতে পারে কি না।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ