সাংবাদিকতা নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের কথা তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু যে সাংবাদিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন, অনেক সময় তাকেই অপমান, লাঞ্ছনা, হুমকি কিংবা নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপ সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে সাংবাদিকতার বাণিজ্যিকীকরণও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে পাঠকের স্বার্থের চেয়ে মালিকানা, বিজ্ঞাপন ও আর্থিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্যের দুর্বলতাও চাপ মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাংবাদিকরা নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ না হলে বিভিন্ন ধরনের চাপ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি কিংবা হয়রানির অভিযোগের কার্যকর তদন্ত ও বিচার না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে সাংবাদিকদের নিজেদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সাংবাদিকতার নামে অপেশাদার ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, অপরাধী বা স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অনৈতিক আচরণ পুরো পেশার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি কোনো সংবাদ বা সাংবাদিকের কাজ পছন্দ না হলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হয়রানির ঘটনাও দেখা যায়। ফলে সাংবাদিকদের একদিকে যেমন পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য থাকলেই গণমাধ্যম সত্যিকার অর্থে সাধারণ ও অসহায় মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।



