চলতি রোপা আমন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পরিমিত বৃষ্টিপাত এবং সময়মতো উন্নত জাতের বীজ ও সার সহজলভ্য হওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন আনন্দের হাসি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে এবার ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের আক্রমণও ছিল তুলনামূলক কম।
বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। কিছু কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান পাকার উপক্রম হয়েছে। কৃষকরা জানান, অতীতে নানা সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাবৃষ্টির কারণে ক্ষতি হলেও এবারের মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় বাড়তি সেচ খরচ গুনতে হয়নি। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেকটাই কমে এসেছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার এবং উচ্চ ফলনশীল জাত ব্যবহারের কারণে হেক্টর প্রতি ফলন জাতীয় লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে, যা কৃষকদের আরও উৎসাহিত করছে।
কৃষক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রগুলো যেন দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে এবং প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হয়। বাজারে দালাল ও ফড়িয়ার দৌরাত্ম্য বন্ধ থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

