বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সংখ্যা পরীক্ষার্থীর চাহিদার দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বোর্ডকে বিপাকে ফেলেছে। বোর্ড-সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে ২১৬টি কেন্দ্র রয়েছে, যা ৮০ হাজার ৪৫৮ জন পরীক্ষার্থীর জন্য অত্যধিক, যেখানে মাত্র ১০০ কেন্দ্রই যথেষ্ট।
বরিশাল জেলায় ৭০টি, ভোলায় ৩২টি, বরগুনায় ২৪টি, পটুয়াখালীতে ৪২টি, পিরোজপুরে ২৮টি এবং ঝালকাঠিতে ২০টি কেন্দ্র রয়েছে। উজিরপুর উপজেলাতেই ৯টি কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে একটি উপজেলায় সর্বোচ্চ তিনটি কেন্দ্রই যথেষ্ট।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় একাধিক কেন্দ্রে একশর নিচে পরীক্ষার্থী ছিল। কারফা পাবলিক একাডেমি কেন্দ্রে মাত্র ৬৩ জন, মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮৯ জন, এবং দুটি কেন্দ্রে ১১১ ও ১১৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৭ বছরে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের রাজনৈতিক তদবিরে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত কেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র পরিচালনায় পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন খাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়, যা বোর্ডের জন্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের বোঝা তৈরি করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সম্প্রতি আন্তঃবোর্ড সভায় অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের কাছে কোন কোন কেন্দ্র বহাল রাখা এবং কোনগুলো বাতিল করা হোক, সে বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, ‘আমাদের যে সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেয় তাতে ১০০ কেন্দ্রই যথেষ্ট। তারপরও চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কেন্দ্র বাতিল করা হবে।


