বরিশালে বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপনের জন্য রবিবার একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে ডিমের উৎপাদন, বাজার এবং পুষ্টি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় ডিম উৎপাদনকারী সমিতি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েক শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়, এরপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ডিমের গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে তুলে ধরার জন্য ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের আকর্ষণীয় উপস্থাপনা প্রদর্শন করে। আলোচনা সভায় মূল বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক, যিনি ডিমকে প্রোটিনের একটি সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে উল্লেখ করে এর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানসম্মত সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষকদেরকে আধুনিক পদ্ধতিতে খামার গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন এবং বেসরকারি খাতের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সভায় স্থানীয় ডিম ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভোক্তাদের কাছে সঠিক মূল্যে মানসম্পন্ন ডিম সরবরাহের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় আরও বলা হয় যে, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ডিমের উৎপাদন কিছুটা প্রভাবিত হলেও, সরকারি সহায়তায় নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডিমকে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং জনসাধারণের মধ্যে ডিমের সুষম ভোজনের প্রচার করার ওপর জোর দেন। সভায় গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী মাসে জেলা প্রশাসন ও ডিম উৎপাদনকারীদের সমন্বয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে, যেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি ও মাননিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে, স্থানীয় কৃষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, 'এই দিনটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা ডিম উৎপাদনে আরো উন্নত হওয়ার জন্য আশাবাদী।' ডিম ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা মানসম্পন্ন ডিম সরবরাহের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভোক্তাদের আস্থা রাখতে পারি।' জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানটিকে একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, 'এ ধরনের অনুষ্ঠান আমাদেরকে ডিমের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুষম খাদ্য ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাবে।' অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণকারীরা ডিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং একসাথে কাজ করার মাধ্যমে এ দেশের পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।


