পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় একটি ব্যবসায়ীকে হানি ট্র্যাপে ফাঁসিয়ে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ ও তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকালে ভান্ডারিয়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সজীব চাপরাশিসহ তিনজনের গ্রেফতারের পর জেলা ছাত্রদল তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে ভান্ডারিয়া বাজারসংলগ্ন রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সজীব চাপরাশি (৩৫), মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৫) ও মারিয়া আক্তার (ছদ্মনাম) কে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডারিয়া বাজার এলাকায় ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র রায় মুন্নাকে (৩৪) কৌশলে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সজীব চাপরাশিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীনের সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করা হয়েছে বলে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসানের পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার ডেইলি বরিশাল-কে জানান, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সংগঠনে অপরাধীদের কোনো জায়গা নেই এবং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, গ্রেফতার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া থানায় সত ধারার অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃত্বও গভীর চিন্তা প্রকাশ করছেন।


