সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

৩৫ বছরের ইতিহাসে এমন লজ্জা আর পায়নি ক্রোয়েশিয়া, ক্ষুব্ধ মদ্রিচ

৩৫ বছরের ইতিহাসে এমন লজ্জা আর পায়নি ক্রোয়েশিয়া, ক্ষুব্ধ মদ্রিচ...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ পিএমসর্বশেষ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
৩৫ বছরের ইতিহাসে এমন লজ্জা আর পায়নি ক্রোয়েশিয়া, ক্ষুব্ধ মদ্রিচ

ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে হারের পর নিজের দলকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বিশ্রামে ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফেরেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, এমন হারে তিনি গভীর লজ্জা পেয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে এ রকম অনুভূতি তার আগে কখনো হয়নি।

শনিবার রিয়েকায় উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি হয়। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় হার। ১৯৯১ সালে স্বাধীন দেশ হওয়ার পর এত বড় ব্যবধানে তারা কখনো হারেনি। ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা দুটি করে গোল করেন। একটি করে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন, জুড বেলিংহাম ও মরগান রজার্স। ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ পুরো ম্যাচে এলোমেলো ছিল।

ম্যাচের পর মদ্রিচ দলের লড়াইয়ের অভাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। নিজের মাঠে এমন নিষ্প্রাণ খেলার কারণ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। ক্রোয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ইউতার্নিই লিস্ট তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

মদ্রিচ বলেন, ‘এমন পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা খোঁজা কঠিন। কোনো লড়াই ছিল না, ফাউল ছিল না, আগ্রাসন ছিল না, একতাও ছিল না... আমি ২০ বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু কোনো ম্যাচের পর এই প্রথম আমি লজ্জা অনুভব করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি হারতেই পারেন, কারণ এই মুহূর্তে ওরা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু এভাবে হারা এবং বছরের পর বছর ধরে আমাদের অর্জিত সুনাম নষ্ট করা মেনে নেওয়া যায় না। আমি খুব লজ্জিত।

মাঠের পরিস্থিতিকে তিনি অসহায়ত্বের ছবি বলে বর্ণনা করেন। তার মতে, দল কৌশলে ও শারীরিক শক্তিতে পিছিয়ে পড়েছিল। ছায়ার পেছনে ছুটছিল ক্রোয়েশিয়া। দলের একতার অভাব দীর্ঘদিনের এই অধিনায়ককে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে। ২০০৬ সালে অভিষেকের পর তিনি অনেক ভালো-মন্দ সময় দেখেছেন।

মদ্রিচ বলেন, ‘এভাবে ফুটবল খেলা যায় না। দুজন কম নিয়ে খেললেও এভাবে খেলা যায় না। আমাদের মনে হচ্ছিল, আমরা চার-পাঁচজন কম নিয়ে খেলছি। এটা ছিল এক বিপর্যয়ের রাত।

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের একে অপরের দিকে আঙুল তোলা বা দোষী খোঁজা উচিত নয়, বরং এ সময়ে একসঙ্গে থাকা উচিত। আমরা কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসেছি, বাজেভাবেও হেরেছি, কিন্তু জাতীয় দলে কোনো ম্যাচের পর আমার কখনো এমন অনুভূতি হয়নি।

ক্রোয়েশিয়ার সামনে এখন আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী স্পেনের। পিহুয়ানে স্পেনের কাছে বড় হারের স্মৃতি এখনো টাটকা। মদ্রিচ চান, দলের মনোভাব ও তীব্রতা পুরোপুরি বদলাক। তার মতে, এই মানের খেলা আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাহিদার ধারেকাছেও নেই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একজোট হতে হবে, একসঙ্গে থাকতে হবে, কারণ আরেকটি কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমাদের আসল রূপ দেখাতে হবে, আমাদের মধ্যে জেদ, গর্ব, ইচ্ছা, সংকল্প, একতা আছে, যা রাতারাতি হারিয়ে যেতে পারে না।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ