মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

আন্তর্জাতিক

মরক্কোয় সাংবাদিকদের ওপর নজরদারির অভিযোগ

মরক্কোয় সাংবাদিকদের ওপর নজরদারির অভিযোগ...

ফ
ফাতেমা খানম· আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএমসর্বশেষ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
মরক্কোয় সাংবাদিকদের ওপর নজরদারির অভিযোগ

মরক্কোয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে তাদের ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

‘উই স্টার্ট উইথ দ্য ভারডিক্ট: ইনসাইড মরক্কোস সারভেইল্যান্স মেশিন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ১৪টি গণমাধ্যমের সহযোগিতায় তৈরি করেছে অ্যামনেস্টি। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নেটওয়ার্ক ফরবিডেন স্টোরিজ এ উদ্যোগ সমন্বয় করেছে।

প্রতিবেদনে চারজনের ঘটনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তারা হলেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ওমর রাদি, প্রবীণ অধিকারকর্মী ফুয়াদ আবদেলমুমনি, মানবাধিকার আইনজীবী আবদেসসাদাক এল বুশাত্তাউই এবং নির্বাসিত সাংবাদিক হিচাম মনসুরি।

রাদি আল-জাজিরাকে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে তাকে নজরদারির আওতায় নেওয়া হয়নি। তিনি মরক্কোয় জমি দখল নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। পরে জানতে পারেন, তার ফোন পেগাসাসের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ২০২০ সালের জুনে অ্যামনেস্টির সিকিউরিটি ল্যাব তার ফোন পরীক্ষা করে এ তথ্য প্রকাশ করে।

রাদি জানান, ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি নজরদারির নানা লক্ষণ টের পেয়েছিলেন। তার ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যেত, অতিরিক্ত গরম হতো এবং নেটওয়ার্ক ধীর হয়ে যেত।

তার ভাষ্য, শারীরিক নজরদারিও গোপন ছিল না। তার বাড়ির আশপাশের দোকান, পার্কিংকর্মী ও বন্ধুদের কাছ থেকে নিয়মিত তার চলাফেরার তথ্য নেওয়া হতো।

অ্যামনেস্টি বলেছে, প্রতিবেদনটি তৈরির সময় মরক্কোর জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর টেরিটোরিয়াল সারভেইল্যান্সের (ডিজিএসটি) সাবেক এক কর্মীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তিনি ‘সাফির’ ছদ্মনামে কথা বলেছেন। স্বাধীন সূত্র, কারিগরি তথ্য এবং নজরদারির শিকার ১০ জনের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

প্রতিবেদনটিতে মরক্কোয় ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পেগাসাস ব্যবহারের অভিযোগ নথিবদ্ধ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টির দাবি, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পেগাসাসের রেকর্ডে মরক্কোর ১০৩টি ফোন নম্বরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করা যায়। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন ছিলেন নাগরিক সমাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ৩৪ জন মানবাধিকারকর্মী, ২২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, পাঁচজন আইনজীবী এবং চারজন শিক্ষাবিদ।

অ্যামনেস্টির ভাষ্য, নজরদারির এই ব্যবস্থায় ডিজিটাল ও শারীরিক—দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। সাফিরের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের আটক অবস্থায়, অফিসে, গাড়িতে, ক্যাফেতে এমনকি শয়নকক্ষেও গোপনে ভিডিও ও অডিও ধারণ করা হতো। ফোনের দোকানগুলোকে ব্যবহার করে নজরদারির লক্ষ্য ব্যক্তিদের স্পাইওয়্যারযুক্ত ফোন বিক্রি করা হতো বলেও তিনি দাবি করেন।

মরক্কো অবশ্য অ্যামনেস্টির এসব অভিযোগ আগেও প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০২০ ও ২০২২ সালে দেশটির কর্তৃপক্ষ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে অ্যামনেস্টিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের চার সপ্তাহ আগে অ্যামনেস্টি মরক্কোর কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাইলেও কোনো জবাব পায়নি বলে জানিয়েছে। আল-জাজিরাও মরক্কোর কর্মকর্তাদের মন্তব্য চেয়েছিল। প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

মরক্কোর গণমাধ্যমও নতুন প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম লে৩৬০ বলেছে, কোনো ফোন নম্বর পেগাসাসের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকাই ফোনটি আক্রান্ত হওয়ার বা কারা হামলার নির্দেশ দিয়েছে, তার প্রমাণ নয়। অ্যামনেস্টি যে ধরনের চূড়ান্ত কারিগরি ও বস্তুগত প্রমাণের কথা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, তা দেয়নি বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

মরক্কোর সাংবাদিক তৌফিক বুয়াচরিনও আল-জাজিরার কাছে সাংবাদিকদের ওপর চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থামাতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এবং অনলাইনে অপপ্রচারের মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়।

বুয়াচরিনকে ২০১৮ সালে ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার সাংবাদিকতার কারণে তাকে বিচারিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। জাতিসংঘের স্বেচ্ছাচারী আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ তাঁর আটককে স্বেচ্ছাচারী বলে উল্লেখ করেছিল। পরে রাজকীয় ক্ষমায় ছয় বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান।

ততদিনে তার প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র আখবার আল-ইয়োম বন্ধ হয়ে যায়। বুয়াচরিনের দাবি, কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটির বিজ্ঞাপনের আয় বন্ধ করে দিয়েছিল।

তার ভাষায়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধ্বংসের আরেকটি পদ্ধতি হলো বিজ্ঞাপনের প্রবাহ বন্ধ করে একটি সংবাদপত্রকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ফ

ফাতেমা খানম

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ