ইসলামাবাদে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানির সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত করতে সংযম, সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসহাক দার। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই ‘সংযম, সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর গুরুত্ব’ তুলে ধরেছে।
দার বলেন, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা এবং অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নৌপথের ওপর চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় তেহরান। বাহরাইনেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাতও তীব্র হয়েছে। ওই সময় ইয়েমেনি গোষ্ঠী আল-হুদায়দাহ ও তাইজ প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখল করে। এর মধ্যে মোখা বন্দরনগরীও ছিল। পরে বাব আল-মান্দেব প্রণালির মায়ুন দ্বীপের দিকেও অগ্রসর হয় তারা। বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল জায়ানি বলেন, এমন এক সময়ে ইসলামাবাদে তাদের বৈঠক হলো, যখন ‘অঞ্চলের সংকট এখনো সমাধান হয়নি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল প্রতিদিনই হুমকির মুখে পড়ছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বিমানবন্দর ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আল জায়ানি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহরাইন এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈঠকে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব —দুই প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এসব নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।



