সম্প্রতি কফি এনেমা ও কিটো ডায়েট নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ডাক্তারদের রয়েছে এসব নিয়ে নানান মত। হ্যালো ডাক্তার বিভাগে আজ আমরা কথা বলব জেকে লাইফস্টাইলের চেয়ারম্যান ডা. জাহাঙ্গীর কবির-এর সঙ্গে।
প্রশ্ন : ডাক্তাররা মনে করেন আপনার পরামর্শ বা চিকিৎসা পদ্ধতির কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই—আপনার মন্তব্য কী?
উত্তর : আসলে আমরা যেটা করি, সেটা বিজ্ঞানসম্মত। কারণ হচ্ছে, লাইফস্টাইল সবার আগে। এই যে ‘ডেভিডসন’ (বই) আছে, এখানেও সবার আগে ডায়াবেটিস ও প্রেশারের রোগীদের লাইফস্টাইল ঠিক করার কথা বলা হয়েছে এবং লাইফস্টাইল দিয়ে কাজ না হলে তখন ওষুধ অ্যাড করতে বলা হয়। লাইফস্টাইলের ভেতরে আছে খাবার। খাবারের ভেতরে আমরা হেলদি খাবার খেতে বলি, অরগানিক খাবার খেতে বলি, প্রাকৃতিক খাবার খেতে বলি; আর জাঙ্ক ফুড সবাই অ্যাভোয়েড করব। এই যে জাঙ্ক ফুড খেলে ক্ষতি হয়, এটা বিজ্ঞানসম্মত; জিলাপিতে হাইড্রোজ আছে, জমিতে গ্লাইফোসেট আছে—এগুলো বিজ্ঞানসম্মত। এছাড়া আমরা মানুষকে রোজা রাখতে পরামর্শ দিই—লাইফস্টাইলের ভেতরে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রোজার ব্যাপারে অটোফ্যাজি আবিষ্কার করেছেন জাপানি বিজ্ঞানী ওশুমি, এটা আবিষ্কার করে তিনি নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। এছাড়া আমরা মানুষকে এক্সারসাইজ করতে বলি, এক্সারসাইজ করলে রক্তের চিনি কোষের মধ্যে ঢোকে বা মাসলে প্রবেশ করে—এটাও বিজ্ঞানসম্মত। অর্থাৎ এক্সারসাইজ করলে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
প্রশ্ন : আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—একজন ডায়াবেটিস রোগীকে ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আপনার বক্তব্য কী?
উত্তর : আমরা রোগীটার ব্যাপারে পরে খোঁজ নিয়েছি। তাকে যে ইনসুলিন বন্ধ করা হয়েছে, এর কোনো প্রমাণ নেই। আমাদের কাছে এই রোগীটা যখন এসেছিল—আমি দেখিনি। রোগীটাকে আমার এখানকার একজন ডাক্তার দেখেছেন। প্রতিষ্ঠানে এসেছিল। পরে দেখা গেল ওর যে আগের প্রেসক্রিপশনে দুটো ডায়াবেটিসের ওষুধ চলত, ওখানে কোনো ইনসুলিন ছিল না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমাদের এখানে কোনো ওষুধ-ইনসুলিন বন্ধ করা হয়েছে বলে তারা যে অবজেকশনটা দিয়েছে, আমরা এটারও কোনো সত্যতা পাইনি। আরেকটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো—অন্য রোগীরা যারা ইনসুলিন পায়, আমরা কিন্তু ইনসুলিন বন্ধ করে দিই না। আমরা তাকে অ্যাডজাস্ট করি, ডোজ অ্যাডজাস্ট করি।
প্রশ্ন : কিটো ডায়েট নিয়ে আপনার পরামর্শের সঙ্গে প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কিছু মতপার্থক্য দেখা যায়। এই মতপার্থক্যের মূল জায়গাটা কোথায়?
উত্তর : মূল জায়গাটা হচ্ছে মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং। কারণ আমরা তো কোনো ডায়েট দিই না। আমাকে ‘কিটো’ ট্যাগ দেওয়া হয়েছে; আমি নাকি কিটো ডায়েট দিই। আমি যেটা করি, সেটা হলো, একটা লোকের যদি সুগার বেশি থাকে, তাকে সুগার কমাতে বলি। মানে খাবারের ভেতর থেকে ভাত, রুটি, ফলমূল—এগুলো কিন্তু চিনি আমাদের শরীরের ভেতরে নিয়ে আসে। ভাত খেলেও রক্তে চিনি আসবে, রুটি খেলেও আসবে। যদি কারো এরকম সমস্যা না থাকে, মনে করেন একজন কৃষক, তিনি কৃষি কাজ করেন, তিনি তো ভাত খাবেন, দুবেলা ভাত খান তিনি এবং অনেক সময় এক-দুই গামলা ভাত খান, তাদের তো ডায়াবেটিস হচ্ছে না। যারা মাঠে-ঘাটে কাজ করে, তাদের যদি আপনি ভাত বন্ধ করে দেন, তাহলে এটা কেমন কথা? এছাড়া যাদের সমস্যা আছে, তাদের জন্য আমরা কার্বসটাকে কমাতে বলি। যাদের প্রবলেম নেই, যেমন আমি নিজে ভাত খাই, আমার যারা ফলোয়ার, যারা সুস্থ হয়েছে, তারাও ভাত খায়। আসলে ওরা জানেই না যে, আমি আসলে কোন পরামর্শ দিই।
প্রশ্ন : কফি এনেমার কথিত ডিটক্স বা রোগ নিরাময়ের কার্যকারিতার পক্ষে কি কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে?
উত্তর : এটাকে বলে অ্যানেকডোটাল এভিডেন্স (Anecdotal evidence), অর্থাৎ কেস স্টাডি আছে। যেমন একজন জাপানি বিজ্ঞানী হিরোমি শিনিয়া। তিনি তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, যেখানে কেমিক্যাল এনেমাগুলো ব্যবহার করা হয়, সেখানে যদি কফি এনেমা তার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়, তাহলে ডিটক্সিফিকেশনটা অনেক ভালো হয়। আমাদের এখানে আমরা যখন দেখেছি, যাদের এ ধরনের প্রবলেম আছে, যাদের ডিটক্সিফিকেশন দরকার, তাদের আমরা ব্যবহার করেছি এবং তাদের রিভিউ অনেক ভালো। অর্থাৎ এটা নিয়ে আমাদের ভবিষ্যতে আরো বড় গবেষণা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন : আপনার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছে যে, আপনি কখনো কখনো ওষুধের প্রয়োজনীয়তাকে কম গুরুত্ব দেন, এ সম্বন্ধে কী বলবেন?
উত্তর : আমি নিজেও তো ওষুধ লিখি, ডাক্তার। আমি ওষুধ লিখতে চাই; কিন্তু দেখা যাচ্ছে, যখন একটা মানুষ লাইফস্টাইল ফলো করে, তখন তার স্বাভাবিক আছে সুগার, আমি তাকে ওষুধ দিতে পারি না। কারো যদি ব্লাড প্রেশার ১১০/৭০ থাকে, আমি তাকে ওষুধ দিতে পারি না। যারা ইমার্জেন্সিতে আছে, অর্থাৎ ওষুধ প্রয়োজন—তাদের ওষুধ ছাড়া আপনি কীভাবে রক্ষা করবেন? আমরা বলি, বছর বছর যাদের অনেক ওষুধ খেতে হচ্ছে, লাইফস্টাইল মেনে আমরা যদি ওষুধমুক্ত হতে পারি—ওই জায়গাটা নিয়ে আমি আসলে কাজ করি।
প্রশ্ন : পুরুষের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব পণ্য বিক্রি করা হয়, সেগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ রয়েছে?
উত্তর : না, এটা আসলে বেশ কিছু ভুয়া পেজ থেকে আমাদের নামে অ্যাড দেয় বিভিন্ন রকম। তো আমাদের আসলে ওরকম যৌন শক্তি বাড়ানোর কোনো সাপ্লিমেন্ট নেই। আমরা মাকা, কাকা রুট পাউডার, ম্যাচা—এগুলো বিক্রি করি। এগুলোকে ন্যাচারাল ভায়াগ্রা বলা হয়। এই সাপ্লিমেন্টগুলো—সারা বিশ্বেই এগুলোর ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে পেরুর দিকে দেখবেন, ওরা এগুলো প্রচুর ব্যবহার করে। শুধু যে আপনার এটা খেয়ে শক্তি বেড়ে যাবে, ব্যাপারটা তা নয়—এক্সারসাইজ করতে হবে, আপনাকে আর্লি ঘুমাতে হবে, ভোরে উঠতে হবে, রোদে যেতে হবে, ঘাসে হাঁটতে হবে, তারপর আপনার আরো অন্যান্য যে খাবার আছে, সেগুলোর দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।



