শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

ধর্ম ও জীবন

গাজা যুদ্ধ মোদির ভারতকে যেভাবে ইসরাইলের আরো কাছে নিল

গাজা যুদ্ধ মোদির ভারতকে যেভাবে ইসরাইলের আরো কাছে নিল...

ন
নাজমুল ইসলাম· বিশ্লেষক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ পিএমসর্বশেষ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
গাজা যুদ্ধ মোদির ভারতকে যেভাবে ইসরাইলের আরো কাছে নিল

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের হামলায় হাজারো মানুষের প্রাণহানি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহু সরকারের বিচ্ছিন্নতা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগের মধ্যেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে দেশটির এই অবস্থান পরিবর্তন আরো স্পষ্ট হয়েছে। একসময় ফিলিস্তিনের জোরালো সমর্থক ভারত এখন ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা অংশীদার। গাজায় যুদ্ধ চলার মধ্যেও ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানির অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, হিন্দুত্ববাদী আদর্শ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্বার্থ এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

স্মোতরিচের ভারত সফর। গাজায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের পক্ষে কথা বলা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নেওয়া স্মোতরিচকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও নরওয়ে আগেই নিষিদ্ধ করেছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নও তার ও আরেক কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করছিল। অথচ ভারত সফরে স্মোতরিচকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। নয়াদিল্লিতে তিনি বাণিজ্য চুক্তি সই করেন, মুম্বাইয়ে শেয়ারবাজার পরিদর্শন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে একটি নতুন বিনিয়োগকেন্দ্র ঘুরে দেখেন।

স্মোতরিচের সফরের সময় গাজায় ইসরাইলের হামলা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যেই ইসরাইলের সঙ্গে ব্যবসা আরো বাড়াতে প্রস্তুত ছিল নয়াদিল্লি। বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্যগতভাবে ইসরাইলের সমর্থক ইউরোপের কয়েকটি দেশ যখন নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা থেকে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে, তখন ভারত উল্টো ইসরাইলের আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইল সফর করেন মোদি। সে সময় গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিলেন। জেরুজালেমে ইসরাইলের পার্লামেন্টে মোদির সঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনি ইসরাইলের মহান বন্ধু। আপনি শুধু বন্ধু নন, একজন ভাই।

ইসরাইলের তিন বছরের হামলায় গাজায় অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু। যুদ্ধের আগের জনসংখ্যার হিসাবে প্রতি ৩০ জনে একজন প্রাণ হারিয়েছেন।

ভারত ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে কূটনীতি ও আলোচনার ওপর জোর দিয়ে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধ কিংবা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত—সব ক্ষেত্রেই নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান করে না। কিন্তু আল-জাজিরার অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ চলার সময়ও ভারত ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি করেছে। একই সময়ে মোদির আমলে ভারত ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতায় পরিণত হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদি ওই ‘সন্ত্রাসী হামলার’ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইল সফরের সময় ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে হামলার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। পাকিস্তানি যোদ্ধাদের চালানো ওই হামলার জন্য নয়াদিল্লি পাকিস্তান সরকারকে দায়ী করে আসছে।

মোদি বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করি। এ ক্ষেত্রে কোনো দ্বৈতনীতি নেই।

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, ইসরাইলকে আক্রান্ত দেশ হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যমে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন মোদি।

তার ভাষায়, বিজেপির রাজনীতির বড় অংশজুড়েই দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি সম্প্রসারণবাদ ও ইসলামি সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ রয়েছে। ফলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানের সম্প্রসারণ হিসেবেও দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী ডানপন্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জায়নবাদের প্রতি সমর্থন রয়েছে। বিজেপির আদর্শিক ভিত্তি হিন্দুত্ববাদ। এর লক্ষ্য ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তর করা এবং বিশ্বের যেকোনো স্থানে থাকা হিন্দুদের জন্য দেশটিকে স্বাভাবিক আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ইসরাইলও নিজেদের ইহুদিদের আবাসভূমি হিসেবে দেখে।

কিদওয়াইয়ের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ভারতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব আরো জোরালো হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক প্রভাব ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়টি।

ভারতের সাবেক কূটনীতিক নভদীপ সুরি আল-জাজিরাকে বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগও ভারত-ইসরাইল সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভারতের সমাজের একটি অংশ ইসরাইলের কঠোর নিরাপত্তানীতির প্রতি বিশেষভাবে অনুরাগী। দেশটির ডানপন্থি রাজনৈতিক মহল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোদিকে ইসরাইলের মতো নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো।

সুরির মতে, গাজায় বর্তমান যুদ্ধ শুরুর অনেক আগেই ইসরাইলের দিকে ভারতের ঝোঁক বাড়তে শুরু করেছিল। মোদির আমলে আগে গোপনে বা আড়ালে থাকা সম্পর্ক এখন অনেক বেশি প্রকাশ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসরাইলকে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে ভারত। নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতেও মিল রয়েছে।

গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের ঘটনায় ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও অসন্তোষ বেড়েছে। অন্তত ১১টি ইউরোপীয় দেশ ও কানাডা অবৈধ ইসরাইলি বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগে বসতি স্থাপনকারী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অনেক দেশ। স্মোত্রিচ ও বেন-গভিরের মতো মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভারত যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে হামলার বিষয়ে সাধারণ নিন্দা এবং সীমিত আপত্তির বাইরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কূটনৈতিকভাবে নয়াদিল্লি এখনো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে। গাজায় ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তিরও আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

তবে সাবেক কূটনীতিক সুরি মনে করেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের আরো নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নেওয়া উচিত। তার অভিজ্ঞতায়, ভারত ও ইসরাইলের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় থাকায় ইসরাইলের সমালোচনা করতে অনীহা দেখায় নয়াদিল্লি।

সুরির মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার নিন্দা না করা, গাজায় ইসরাইলের শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা না করা এবং ইরানে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে না ধরার মধ্য দিয়ে এই অনীহা প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কিদওয়াইয়ের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর নেতাদের তুলনায় ভারতের বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি মতাদর্শনির্ভর।

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে ইসরাইলের প্রতি দুই প্রধান দলেরই সমর্থন রয়েছে। তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে লেবাননে ইসরাইলের বোমা হামলায় সমর্থন বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে ইসরাইলের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছেন তিনি। তবে এসবের কোনোটিই নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেনি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরাইল-ফিলিস্তিন কর্মসূচির পরিচালক ম্যাক্স রোডেনবেক এর আগে আল-জাজিরাকে বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে মোদির ইসরাইল সফরকে নেতানিয়াহুর প্রতি ব্যক্তিগত অনুগ্রহ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইসরাইলে নির্বাচনী প্রচার শুরুর প্রাক্কালে মোদির সফর নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ভাবমূর্তি জোরদার করেছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ। আগের দশকগুলোতে কোনো ভারতীয় নেতার কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ কল্পনা করাও কঠিন ছিল।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল ভারত। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লিতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়াকে একসময় ভালো চোখে দেখা হতো না। যদিও অন্তত ১৯৭০-এর দশক থেকে দুই দেশের মধ্যে গোপন যোগাযোগ ছিল।

১৯৭৫ সালে জায়নবাদকে বর্ণবাদের একটি রূপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল ভারত। ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম অনারব দেশ ছিল ভারত। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকেও বিশ্বের প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল তারা।

১৯৯২ সালে ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে ভারত। এরপর বিভিন্ন সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে জোরদার হয়। ২০১৬ সালে মোদি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরাইল সফর করেন।

কিদওয়াই বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ভারতের ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস দল ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনকে মুসলিম ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান জোরদারের একটি উপায় হিসেবেও দেখত। জনসংখ্যার হিসাবে ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের পর ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ। বিপরীতে, মোদির হিন্দু-প্রাধান্যবাদী রাজনীতিতে ভারতীয় মুসলমানদের অন্য হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা রয়েছে।

কিদওয়াইয়ের ভাষায়, মোদির দল মনে করে, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নিয়ে তাদের কোনো রাজনৈতিক লাভ নেই। বরং ইসরাইলে হামলাকে তথাকথিত সন্ত্রাস ও ইসলামি চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন মোদি। তার মতে, এই বয়ানের মধ্যেই ভারতের ইসরাইলঘেঁষা অবস্থানের একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ন

নাজমুল ইসলাম

বিশ্লেষক

রাজনৈতিক রিপোর্টার, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ