পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করেছে দেশটির সরকার। রোববার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করেন। এরপর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। দেশটির সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি অবস্থা জারির জন্য প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
দেশটির সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ, বহিঃআক্রমণ কিংবা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে জরুরি অবস্থা জারির বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ২৩৪ অনুচ্ছেদে প্রদেশে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে গভর্নর শাসন জারির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের শাসন দুই মাসের মধ্যে পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে অনুমোদন করাতে হয়। তবে তা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গওহর আলি খান। তিনি জরুরি অবস্থা জারিকে ‘অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে বলেন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দুর্বল করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।



