মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

থানা ও ডিসি অফিস ঘেরাও করতে আমাকে বাধ্য করবেন না: জামায়াত এমপি মাহবুবুর

থানা ও ডিসি অফিস ঘেরাও করতে আমাকে বাধ্য করবেন না: জামায়াত এমপি মাহবুবুর...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ এএমসর্বশেষ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
থানা ও ডিসি অফিস ঘেরাও করতে আমাকে বাধ্য করবেন না: জামায়াত এমপি মাহবুবুর

রংপুরের জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য হিসেবে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রংপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমাকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করতে বাধ্য হবো। থানা ও ডিসি কার্যালয় ঘেরাও করতে আমাকে বাধ্য করবেন না। পরিষ্কার বললাম, আমি ভদ্রলোক, কিন্তু অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না।

গতকাল রোববার সভায় মাহবুবুর রহমানের দেওয়া ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ভিডিওতে দেখা যায়, মাহবুবুর রহমান বলছেন, ‘আপনারা এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না? হোয়াই? হোয়াই? কী মনে করেন, আমরা আসমান থেকে আসছি? মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছি? উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেবো?

তার নির্বাচনী আসনটি রংপুর সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যদি পাবলিক খেপে যায়, তাহলে কিন্তু সেই খ্যাপানো আপনারা থামাতে পারবেন না, পরিষ্কার বলে দিলাম। সেই ক্ষমতা পুলিশের নাই, কারও নাই। পাবলিক অত বোকা আর নাই। পুলিশকে, র‍্যাবকে আর ভয় পায় না, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য।

সভায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘রংপুরে সার ডিলার নিয়োগে ন্যক্কারজনকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন। সব ডিলার একটি দল থেকে দেওয়া হলে অন্যদের আবেদন করানো হলো কেন? প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হলেন কেন?

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাহবুবুর রহমান।

সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অনুপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সিটি নিয়ে আলোচনা হবে, অথচ সিটি প্রশাসক নেই, মেয়র নেই, এ তো হতে পারে না! তারা আসবেন না কেন, আমার মাথায় ঢোকে না। এমপিরা যদি থাকতে পারেন, হোয়াই নট প্রশাসক? হোয়াই নট মেয়র? আমি বুঝি না, হোয়াই নট পুলিশ কমিশনার? তাহলে কি তারা আমাদের চেয়েও সুপিরিয়র?

‘রুল অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী আমি থাকব, ওরা থাকবে না কেন? ওরা কি বড় লাটসাহেব হয়ে গেছে? নিজেকে লাটসাহেব ভাববেন না। ইউ আর দ্য সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল’, বলেন তিনি।

সভাটি পুনর্নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন এই সংসদ সদস্য।

জেলার বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখার অভিযোগ তোলেন মাহবুবুর রহমান।

তার দাবি, বিভিন্ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি রাখার বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে সরকারি কার্যক্রমে জনগণের মতামত ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জেলায় অনেক কমিটি আছে, কিন্তু এমপিদের কতজন প্রতিনিধি সেখানে আছেন? স্পষ্ট বলা আছে, এমপিদের প্রতিনিধি থাকতে হবে। সেখানেও নেই। সবকিছু একটি দল কুক্ষিগত করে নিয়েছে। এটা কি গণতন্ত্র? এর মাধ্যমে কি জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে?

সভায় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (পদমর্যাদাক্রম) যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।’ জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী ও রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ইসরাত জাহান বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ সবার পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা উচিত। যেকোনো বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে শব্দচয়নের বিষয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্য পুরোপুরি সত্য নয়। সব কমিটিতে সদস্য ও তার প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও রয়েছে। কিছু কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আজ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যা বলেছি, সবই সঠিক। যা ঘটেছে, আমার বক্তব্যে তা-ই তুলে ধরেছি। আমি একজন সংসদ সদস্য, অথচ আমাকে কোনো মূল্যায়নই করা হচ্ছে না।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ