মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী দিনে ৫০০টি উপজেলায় এ সেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প শুরু হলেও ধাপে ধাপে সারা দেশে তা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘সামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজকল্যাণের সোপান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আঁচল ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি), লিডোসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব সাইদুর রহমানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেবল বড় শহর বা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। যুদ্ধ-সংঘাত, জীবনযাত্রার দ্রুত পরিবর্তন, একাকীত্ব ও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীরা এর বড় শিকার।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প মানেই বড় ভবন নির্মাণ বা ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা নয়। দক্ষ জনবল ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ করে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
ড. মুহিত জানান, ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পাবনার মানসিক হাসপাতালের সেবাকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প সাজানো হয়েছে। তবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এ সেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য শুধু উচ্চতর ডিগ্রিধারী জনবল তৈরির ওপর নির্ভর করলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছানো কঠিন হবে। এ জন্য দুই বা তিন বছর মেয়াদি ভোকেশনাল ডিপ্লোমা ও কারিগরি কোর্স চালু করা প্রয়োজন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) কাঠামোর আওতায় মধ্যম পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করা গেলে তাঁরা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা দিতে পারবেন।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার রক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং সামাজিক কুসংস্কার ও নেতিবাচক ধারণা দূর করতে নীতিগত উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মানুষের মর্যাদা রক্ষাকে রাষ্ট্র ও সমাজের মৌলিক দায়িত্ব উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।



