রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল-নূর মোহাম্মদ আয়াস ও তার এক সহযোগীর জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই ঘটনা ঘটে।
জামিন শুনানিকালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে নিজের খাসকামরায় চলে যান।
কয়েক মিনিট পর বিচারক আবারও এজলাসে ফেরেন। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে তিনি জামিন আবেদন নাকচ করে আয়াস ও তার সহযোগী মার্জিয়া খন্দকার রিমিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ চারজন। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।
আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ওই এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করে। এরপর দেয়ালটিতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন ও সত্যজিৎ রায় ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর দেয়ালচিত্রটি মুছে দেওয়ার ঘোষণা দেন আয়াস। পরদিন ১০ অক্টোবর তিনি ও অন্য আসামিরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপে দেন মার্জিয়া।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তিনি ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোরও চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।



