ঢাকার সাভারে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।আজ সকাল ১১টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকায় আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসার মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ১২ বছর বয়সী মেয়ে মাদ্রাসাটির পঞ্চম শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী। গত ১১ অক্টোবর দুপুরে আমার স্বামীকে ফোন করে জানানো হয়, মেয়ে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছে। পরে আমার স্বামী মাদ্রাসায় যান এবং এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। তাকে না পেয়ে ওইদিন রাতেই তিনি সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
‘পরদিন আমি মাদ্রাসায় গিয়ে জানতে চাই, নিরাপত্তাকর্মী থাকা সত্ত্বেও আমার মেয়ে কীভাবে নিখোঁজ হলো? তারা একেক সময় একেক কথা বলেন। সান্ত্বনা না দিয়ে মেয়েকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলেন। পরে আমি চলে আসি’, বলেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থীর মা আরও বলেন, পুলিশও আমাদের তেমন সহযোগিতা করেনি। তাই আজ সকালে প্রতিবেশীদের নিয়ে মাদ্রাসায় যাই। নারী সদস্যরা মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে ভেতরে ঢোকেন। পুরুষ সদস্যরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ অন্য একটি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থী ও হুজুররা এসে বাইরে অপেক্ষারত পুরুষ সদস্যদের ওপর হামলা করেন। তাদের মারধরে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিককেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসে হামলাকারীদের শান্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করব। হামলার বিচার চাই, পাশাপাশি আমার মেয়েকে খুঁজে বের করার দাবি জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসার মিডিয়া শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ফিরোজী সাংবাদিকদের বলেন, ওই মেয়েটি মাদ্রাসাটির আবাসিক শিক্ষার্থী। গত ১১ অক্টোবর সকাল ১১টায় মাদ্রাসা ছুটির পর সে নিরাপত্তাকর্মীর নজর এড়িয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বের হয়ে যায়। বিষয়টি জানার পরপরই তার অভিভাবককে খবর দেওয়া হয়।
‘পরে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে নিয়ে সাভার মডেল থানায় জিডি করা হয়। তাদের সিসিটিভি ফুটেজও দেখানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা এসে ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেন। আমরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করছি,’ বলেন তিনি।
আব্দুল্লাহ ফিরোজী বলেন, আজ মেয়েটির অভিভাবকেরা এলাকার শ্রমিকশ্রেণির লোকজনকে নিয়ে মাদ্রাসার সামনে এসে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মাদ্রাসার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে অন্য একটি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সেখানে এলে তাদের মারধর করা হয়। এ খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করতে এলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন।
ওসি সাইফুল আলম বলেন, আমরা মেয়েটিকে খুঁজছি। তার বইয়ে লেখা একটি মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করা হবে। তবে পরিবারের সদস্যরা কেন আজ এলাকাবাসীকে নিয়ে মহিলা মাদ্রাসায় গেলেন, তা বুঝতে পারছি না।



