বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নি ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘মিশন কাশ্মীর’, ‘সিংহাম’ সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি এনেছেন। তবে পর্দার এ অভিনেত্রীর শৈশব কেটেছে সাধারণ একটি পরিবারে। যেখানে সংসারের খরচ চালাতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন তার মা। কখনো চাটনি বিক্রি করতেন, আবার কখনো বানাতেন টিফিন। বাড়িতে চালাতেন শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্রও। মায়ের এসব কাজে সহযোগিতা করতেন সোনালি কুলকার্নি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই শৈশবের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেছেন অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হিন্দিসহ নানা ভাষার কাজ করেছেন তিনি। সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশনেও কাজ করেছেন সোনালি কুলকার্নি। অভিনয় থেকেই এসেছে তার বেশিরভাগ আয়।
কীভাবে নিজের উপার্জন ও করসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তাকে অর্থের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে, সেসব কথা অনায়াসে জানিয়েছেন সোনালি কুলকার্নি। আজ একজন সফল ও স্বাবলম্বী অভিনেত্রী।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সোনালি কুলকার্নির সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৬ কোটি টাকা।
অভিনেত্রী বলেন, এখন আমি বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করি। নিজের টাকা সবসময় আলাদা রাখি। নাচিকেত আর আমি আমাদের অর্থ একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলি না।
অভিনেত্রী বলেন, আমার পরিবারে কখনো এত টাকা ছিল না যে, আয়কর দিতে হবে। সংসারের খরচ মেটাতে তার মাকে বিভিন্ন কাজ করতে হতো। সংসার চালাতে মা চাটনি বিক্রি করতেন, টিফিন বানাতেন। বাড়িতে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারও ছিল। আমি ছিলাম মায়ের প্রধান সহকারী।
ছোটবেলা থেকেই মায়ের পরিশ্রম কাছ থেকে দেখেছেন সোনালি কুলাকার্নি। সংসারের প্রয়োজনে মাকে নানা কাজ করতে দেখে বুঝেছেন, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া এ শিক্ষা পরবর্তী সময়ে তার জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানান সোনালি কুলকার্নি।
একসময় অভিনয়জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর আয়কর দপ্তরের নোটিশ পান অভিনেত্রী। দিতে হয় জরিমানাও। জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি তিনি। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে চেক লেখার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সোনালি কুলকার্নি। একসময় যে পরিবারে আয়কর দেওয়ার মতো আয় ছিল না, সেই পরিবারের মেয়েকেই তখন নিজের উপার্জনের ওপর কর দিতে হচ্ছে— বিষয়টি তাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল। সেই দিনের কথা স্মরণ করে সোনালি কুলকার্নি বলেন, একদিন আয়কর দপ্তরের নোটিশ পেলাম। জরিমানাও দিতে হয়েছিল। চেক লেখার সময় সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম।
অভিনেত্রী বলেন, কখনো কল্পনাও করিনি যে এত টাকা উপার্জন করব। বিষয়টি ভীষণ খারাপ লেগেছিল। তবে সেদিনই বুঝতে পারি— উপার্জন করতে পারলে বিনিয়োগ সম্পর্কেও জানতে হবে, করব্যবস্থাও বুঝতে হবে।
সোনালি কুলকার্নি এখন বুঝেশুনে বিনিয়োগ করেন। নিজের উপার্জনের অর্থ আলাদা করে রাখেন এবং আর্থিক পরিকল্পনাও করেন সতর্কভাবে। ব্যক্তিগত জীবনেও অর্থের হিসাব আলাদা রাখার নীতি অনুসরণ করেন তিনি। স্বামী নাচিকেতের সঙ্গে সংসার করলেও দুজনের অর্থ একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন না।



