‘আমাদের আর কেউ রইল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব?’ কথাটুকু বলেই নির্বাক হয়ে যান জেয়াদুল কবির, সঙ্গে তার স্ত্রী কাজল রেখা। এ দম্পতি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা।
আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। সেখানে ছিলেন তার ছেলে মো. নাফিস তেহামী (২৬), মেয়ে ফারিহা কবির (৩৩) এবং ফারিহার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ফাইজান আহমেদ।
এ ঘটনায় দোতলার জানালা থেকে বাইরে লাফিয়ে প্রাণে বেঁচে যান নাফিস-ফারিহার খালাতো বোনের স্বামী আশিকুল ইসলাম।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওই সময় রিসোর্টে এই ৩ জনের সঙ্গে আরও ছিলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (২৮), শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা (২৬), খালাতো শ্যালিকা মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩)।
আশিকুল জানান, সকালে রুমের জানালা থেকে লাফিয়ে পড়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে তার স্ত্রী মালিহা তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের সতর্ক করতে পাশের রুমের দিকে যান মালিহা। সেটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ দেখা।
রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর। তবে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় এখনো তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে সম্প্রতি অবসরে গেছেন জেয়াদুল কবির। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার পূজার ছুটিতে চুয়াডাঙ্গা থেকে মেয়ে ফারিহা, ফারিহার স্বামী নূর আলম ইফতি, তাদের সন্তান ফাইজান ও ঢাকা থেকে নাফিস কক্সবাজারে বেড়াতে যান। পরদিন শুক্রবার জরুরি কাজে নূর আলম চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন।
নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। জনসংযোগ দপ্তরের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাবি।
স্নাতক শেষে এ বিষয়ে নাফিস স্নাতকোত্তর করছিলেন বলে জানান বাবা জেয়াদুল। আমতলী এ কে সরকারি হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকার সেন্ট যোসেফ কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করেছিলেন তিনি।
মালিহা ও নাবিলা জেয়াদুলের ভায়রা মুনসুর রশীদের মেয়ে। চলতি বছর মালিহা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
জেয়াদুলের আরেক ভায়রা সেলিম মিয়ার মেয়ে আলভী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।
তারা সবাই রাজধানীর বনশ্রী এলাকার তিতাস রোডের বাসিন্দা থাকতেন।
আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সবার নাম-পরিচয় সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



