রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
৩ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

অমরত্বকে ছুঁয়ে ফেলেছে ক্রিকেটের যে ৫ রেকর্ড

অমরত্বকে ছুঁয়ে ফেলেছে ক্রিকেটের যে ৫ রেকর্ড...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৩ পিএমসর্বশেষ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৩ পিএম
অমরত্বকে ছুঁয়ে ফেলেছে ক্রিকেটের যে ৫ রেকর্ড

বলা হয়ে থাকে ক্রিকেট নাকি গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। কথাটা কোথাও যেন একটু খাদ আছে। ক্রিকেটে এমন কিছু রেকর্ড হয়ে গেছে, যা টিকে গেছে শত বছর। আরও শত বছর টিকবে, সেটাও বলে দেওয়া যায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে। এমনকি কখনো ভাঙবে না, সে বিষয়েও অনেক বড় বাজি ধরে ফেলা চলে।

যে লেখাটির অনুপ্রেরণা নিয়ে এই প্রতিবেদন, ক্রিকইনফোর লিখিয়ে স্টিফেন লিঞ্চের সেই তালিকাটির বয়সও এখন প্রায় ১৫ বছর। এই সময়ে এখান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটা রেকর্ডও মুছতে পারেননি কেউ। আদৌ পারবেন কি না, কে জানে!

ডন ব্র্যাডম্যানের অতিমানবীয় ব্যাটিং গড়স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ব্যাটিংকে এমন উচ্চতাতেই নিয়ে গিয়েছিলেন যে, এখন কোনো ব্যাটারের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের মাপকাঠিই ধরা হয় তাকে। বলা হয়, ‘ব্র্যাডম্যানীয়’ ব্যাটিং।

সেই ব্যাটার খোদ নিজে কেমন ছিলেন? তার প্রমাণ মেলে তার ব্যাটিং গড়ে। ৯৯.৯৪ তার ব্যাটিং গড়, শেষ ইনিংসে ৪টা রান করতে পারলেই তিন অঙ্ক ছুঁয়ে যেত সেটা। সেটা না হলেও বিষয়টা কি কম অতিমানবীয় হয়ে যায়? না!

তারই সাক্ষ্য দিয়ে চলেছেন তার উত্তরসূরি ব্যাটাররা। দুই অঙ্কের টেস্ট খেলে এমন গড় তো নয়ই, ৭০ এর আশেপাশে গড়ও নেই আর কারও। বুঝুন তাহলে!

এই রেকর্ড অচিরেই কেউ ভাঙবেন, তার সম্ভাবনা কম। টি-টোয়েন্টির রমরমার যুগে বড় রানের চেয়ে দ্রুত রানই প্রাধান্য পায় ব্যাটারদের কাছে। যে কারণে ব্যাটারদের গড়ও নামছে চোখে পড়ার মতো করে। আর সে কারণটিই ব্র্যাডম্যানের এই রেকর্ডকে পৌঁছে দিয়েছে অমরত্বের কাছাকাছি।

মুরালিধরনের ৮০০ উইকেট১৯৬৪ সালে ফ্রেড ট্রুম্যান যখন ৩০০ টেস্ট উইকেট নিলেন, তখন ধরেই নেওয়া হচ্ছিল এই রেকর্ড বুঝি আর ভাঙবে না। তবে এরপর আরও বহু ক্রিকেটার ৩০০ উইকেটের মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন।

মুত্তিয়া মুরালিধরন তাদেরই একজন। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। প্রথম বোলার হিসেবে ছুঁয়েছেন ৮০০ উইকেটের মাইলফলক। সম্ভবত একমাত্র বোলারটিও হয়ে থাকবেন। কারণ বর্তমানে খেলে যাচ্ছেন, এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে কেবল নাথান লায়নই আছেন, যিনি আছেন মুরালিধরনের সবচেয়ে কাছে, তার উইকেটসংখ্যা ৫৭৩টি। তবে তার বয়স ৩৯ ছোঁবে কিছু দিন পরই। তাই তার সম্ভাবনাটা বেশ ক্ষীণ।

এদিকে অদূর ভবিষ্যতে কেউ ভাংবেন, তার সম্ভাবনাও কম। কারণ আছে বেশ কিছু। টেস্টের সংখ্যা কমে আসছে অনেকটাই। তার ওপর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচের সংখ্যাও কমছে পাল্লা দিয়ে। ঠিক তাই মনে করা হচ্ছে, মুরালিধরনের এই বিশ্বরেকর্ডও পেরিয়ে গেছে অমরত্বের চৌকাঠ।

জিম লেকারের ‘১৯’জিম লেকারের এই রেকর্ড ক্রিকেটের বদলে যাওয়া স্বভাবের জন্য নয়, বরং স্বমহিমায় অমর বনে গেছে। ১৯৫৬ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের অ্যাশেজ টেস্টের ২ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লেকার ৯০ রানে ১৯ উইকেট নেন।

পিচ সাহায্য করছিল বটে, কিন্তু একাই প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নিতে হলে পারফর্ম্যান্সটাকে অতিমানবীয়ই হতে হয়। লেকারের এই পারফর্ম্যান্স তেমনই ছিল।

সেই টেস্টের পর ক্রিকেট দেখেছে আরও অন্তত ১৬০০ টেস্ট। সর্বোচ্চ উইকেটের ট্যালিটা ১৬ পর্যন্ত এসেছে, কিন্তু তা কখনো ‘১৯’ হতে পারেনি। এই রেকর্ড তাই ৭০ বছর ধরে টিকে গেছে, কে জানে, হয়তো অমরই হয়ে গেছে!

৫০-এ টেস্ট!এই দেখুন! এই রেকর্ডের শিরোনাম যখন লেখা হচ্ছে, তখনই একটা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন বসে গেছে পাশে। ৫০ বছর বয়সে টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন কেউ, এমন কিছু তো এখন চিন্তাও করা যায় না!

আর ১০০ বছর আগে এতোটা না হলেও পঁয়তাল্লিশ পেরোনো সক্রিয় ক্রিকেটার হরহামেশাই দেখা যেত। এই যেমন ১৯২৯-৩০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ইংল্যান্ড দলে ছিলেন ৫০ পেরোনো একজন নয়, ২ জন ক্রিকেটার। সে সফরে উইলফ্রেড রোডসের বয়স ছিল ৫২ বছর, সঙ্গী জর্জ গানও ছিলেন ৫০ বছর বয়সী। রোডস টেস্টের ইতিহাসেরই সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়।

সেই টেস্টে দুজন শুধু খেলেই রেকর্ড গড়েননি, স্বাক্ষর রেখেছেন স্কোরবোর্ডেও। কিংস্টনের শেষ টেস্টে ক্লিফোর্ড রোচ আউট হন ‘ক্যাচ গান, বোল্ড রোডস’ হয়ে। এই দুই জনের বয়স মিলিয়ে ১০৩ বছরের বেশি ছিল। একটা উইকেটে ক্যাচার আর বোলারের বয়স মিলিয়ে এত বেশি বয়সের রেকর্ড আর একটিও নেই, আর যে কখনো হবে না, সেটাও বলে দেওয়াই যায়।

আবারও সেই রোডস! ইয়র্কশায়ার ও ইংল্যান্ডের উইলফ্রেড রোডস অনেক লম্বা সময় খেলেছেন। তার টেস্ট ক্যারিয়ারেরই বয়স ৩০ বছরের বেশি। এত লম্বা সময় ধরে টেস্ট খেলে যাওয়ার নজির ক্রিকেটে নেই আর একটিও।

আমাদের জীবদ্দশায় একজনই ভাঙতে পারতেন এই রেকর্ড। শচীন টেন্ডুলকার গিয়েছিলেন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৪তম বছর পর্যন্ত, থেমে গেছেন এরপরই। তিনি যদি খেলতে পারতেন ২০২১ সাল পর্যন্ত, তাহলেই কেবল রোডসের রেকর্ডটাকে ভাঙতে দেখা সম্ভব হতো।

কিন্তু শচীন বিদায় নিয়েছেন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে রোডসের শতবর্ষ ছুঁইছুঁই রেকর্ডটি ভাঙার ক্ষীণতম সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে। আর রোডসের রেকর্ডটিও টপকে গেছে অমরত্বের দুর্লঙ্ঘ সে পাঁচিল।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ