শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলেরা হামলা চালিয়েছেন অভিযোগ উঠেছে। এ সময় জেলেদের ছোড়া ইট-পাটকেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুই সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় ৪১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কলিকাল চরে এ ঘটনা ঘটে।।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, সোমবার ভোররাতে শরীয়তপুর-১ (সদর ও জাজিরা) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে পদ্মা নদীর জাজিরা অংশে অভিযান শুরু করেন কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা।
বিশ্বজিৎ কুমার বলেন, সকাল ৯টার দিকে পালেরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর দুর্গম চর কলিকাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নৌকা, জালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে জড়ো হয়েছেন। অভিযান দেখে তারা কাশবনের ভেতর পালিয়ে যান। পরে নদীর পাড়ে থাকা জাল, নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করতে গেলে একদল জেলে ইট-পাটকেল, লাঠি ও দেশীয় দা নিয়ে ফিরে আসে। তারা অভিযানকারী দলের বোটে হামলা চালান। এতে অভিযানে অংশ নেওয়া দুজন আহত হন।
তিনি আরও বলেন, হামলার মুখে অভিযানকারী দলের সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন। পরে অতিরিক্ত নৌপুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। ভোর ৪টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ৪১ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে জেলেরা নদীতে মাছ ধরছেন। তাদের অধিকাংশই প্রকৃত জেলে নন, বহিরাগত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আমি নিজে অভিযানে অংশ নিয়েছি।
তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে অভিযান শুরু করি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা নিজেদের জেলে বলে দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‘আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ বাইরের জেলার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট তাদের ভাড়া করে এখানে এনেছে। এ ঘটনায় মাঝিরঘাট ও সুরেশ্বর নৌপুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তাই তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছি’, বলেন তিনি।
সাইদ আহমেদ আরও বলেন, আমার অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু জেলেদের আটক করা নয়, তাদের কাউন্সেলিং করাও।



