কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে যানবাহন থামিয়ে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল সোমবার দুপুর ও বিকেলে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রায় ৫০টি যানবাহনের যাত্রীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার সাংবাদিকদের বলেন, একদল ডাকাত সড়ক অবরোধ করে যাত্রীদের জিনিসপত্র ছিনিয়ে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতেরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন যাত্রীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধরও করে।
তারা আরও জানান, ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশ পরা এক দল সশস্ত্র ডাকাত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, দুপুরে তিনি ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
অন্য একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আব্দুল হাকিম জানান, তিনি ঈদগাঁও বাজার থেকে অটোরিকশায় আরও দুজনকে নিয়ে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন, তখন ডাকাতরা তাদের পথ আটকায়।
‘অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং পরে জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে,’ বলেন তিনি।
জানতে চাইলে ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, দুই দফায় অনেকগুলো গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে।
ওসি জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কতগুলো গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। তবে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০টি হবে।
স্থানীয়রা জানান, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার পাহাড়ি এলাকা দিয়ে যাওয়া ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে প্রায়ই ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সন্ধ্যার পর এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।



