সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
১১ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান দেখার সহজ নিয়ম ও করণীয়

ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান দেখার সহজ নিয়ম ও করণীয়...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১২ পিএমসর্বশেষ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১২ পিএম
ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান দেখার সহজ নিয়ম ও করণীয়

জমির মালিকানা ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য এখন আর ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ সরকারের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টাল ব্যবহার করে ঘরে বসেই অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করা সম্ভব। জমির অবস্থান, মৌজা ও খতিয়ানের ধরন ঠিক করে খুব সহজেই এই তথ্যগুলো পাওয়া যায়। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে রেকর্ড খোঁজার সুযোগ রয়েছে।

অনলাইনে খতিয়ান বের করার নিয়ম জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে সরকারি পোর্টাল প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও এই সেবায় যুক্ত হওয়া যায়। এরপর জমিটি যে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বা থানার অন্তর্ভুক্ত, তা একে একে নির্বাচন করতে হবে।

নির্দিষ্ট মৌজা ও এর জে এল নম্বর বেছে নিলে রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। জমিটি সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS) কিংবা বিএস/বিএআরএস (BS/BRS) খতিয়ানের কোনটির অধীনে রয়েছে, তা সিলেক্ট করতে হবে। খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে তা দিয়ে সরাসরি অনুসন্ধান করা যায়, আর নম্বর জানা না থাকলে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়েও খোঁজার অপশন রয়েছে। অনুসন্ধানের পর প্রাপ্ত মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ নিজের কাছে থাকা দলিলের সঙ্গে ভালোভাবে মিলিয়ে নিতে হবে। একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারায় শুধু নাম দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন কপি বা সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করা যাবে এবং এজন্য পোর্টালে নির্দেশিত ফি পরিশোধ করতে হয়।

খতিয়ান খুঁজতে যেসব তথ্য প্রয়োজন অনলাইনে খতিয়ান খুঁজতে সব তথ্য একসঙ্গে থাকা বাধ্যতামূলক না হলেও সঠিক তথ্য জানা থাকলে কাজ সহজ হয়। প্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যে রয়েছে বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, মৌজার নাম বা জে এল নম্বর, খতিয়ানের ধরন, খতিয়ান নম্বর (যদি জানা থাকে) এবং দাগ নম্বর বা মালিকের নাম।

অনলাইনে খতিয়ান দেখতে ও সংগ্রহ করতে কত খরচ হয়? পোর্টালে খতিয়ান অনুসন্ধান করা গেলেও কপি সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য। সাধারণত অনলাইন খতিয়ানের কপির জন্য এবং ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে আবেদন ফি ও ডাক মাশুল নির্ধারিত থাকে। তবে সরকারি ফি পরিবর্তিত হতে পারে বিধায় আবেদন করার সময় পোর্টালে প্রদর্শিত ফি দেখে নেওয়া উচিত।

অনলাইন কপি ও সার্টিফায়েড কপির পার্থক্য অনলাইন কপি মূলত সাধারণ তথ্য দেখা ও নিজের সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে, সার্টিফায়েড কপি হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়িত অনুলিপি, যা মামলা বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কাজে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই কোন কাজে কোন কপি প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া ভালো।

অনলাইনে খতিয়ান না পেলে করণীয় সব তথ্য দেওয়ার পরও অনেক সময় রেকর্ড না পাওয়ার সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মৌজার নাম ঠিক আছে কি না বা জরিপের ধরন পরিবর্তন করে দেখতে হবে। পুরোনো ও নতুন রেকর্ডে তারতম্য থাকতে পারে। এরপরও তথ্য না পেলে প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, খসড়া খতিয়ানকে কখনোই চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না।

খতিয়ান দেখলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত? খতিয়ান জমির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হলেও শুধু খতিয়ানে নাম থাকলেই মালিকানা পুরোপুরি প্রমাণিত হয় না। জমি কেনার আগে দলিলের ধারাবাহিকতা, নামজারি, প্রকৃত দখল এবং আইনগত দিকগুলো ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

জালিয়াতি এড়াতে সচেতন থাকুন অনলাইনে খতিয়ান সংগ্রহের সময় প্রতারণা এড়াতে কিছু সতর্কতা মানা আবশ্যক। শুধুমাত্র সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে এবং অচেনা বা ভুয়া ওয়েবসাইটে এনআইডি বা আর্থিক তথ্য দেওয়া যাবে না। যেকোনো ফি পরিশোধের আগে পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করতে হবে এবং প্রয়োজনে সরকারি ভূমিসেবা হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ