সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
১১ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যু: স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যু: স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৪ পিএমসর্বশেষ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যু: স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ফারজানার স্বামী নাজমুল আলম (৩০), আব্দুর রহিম (৫০), স্বামীর বোন আফরোজা বেগম (৪৫), স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী সায়মা আক্তার (২৫), স্বামীর ভাই রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৬৮)। এ ঘটনায় স্বামী নাজমুলকে আটক করেছে পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পারিবারিক সম্মতিতে সাত লাখ টাকা কাবিনে নাজমুলের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ওই দম্পত্তি কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নাজমুল মুন্সীগঞ্জে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা নেন। ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে স্বামীর কাছে চলে আসতেন ।

বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর সামর্থ্য অনুযায়ী জামাতাকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন তিনি। নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর সেই সহযোগিতা কমিয়ে দিলে আসামিরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি মামলা করা হয়। পরে সমঝোতার মাধ্যমে তারা আবার সংসার শুরু করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। গত ২০ অক্টোবর ফারজানা ওই বাসায় যান। ঘটনার দিন বিকালে নাজমুলের বোনের স্বামী বাদীর ছেলেকে ফোন করে আগের মামলার বিষয়ে জানতে চান। রাত ৯টার দিকে তিনি রফিকুল ইসলামকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানান।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, আদালতে করা মামলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এ সময় ফারজানাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ভুঁইগড়ের কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয়তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মুসুল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী নাজমুল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ