ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিকের খেলনা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাকিব নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কারখানার ইউনিট ম্যানেজার মো. মানিকসহ (৪৫) দুজন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের আতাশুর এলাকার একটি সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত এসএস টয় কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় বেলা ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তারা তৈরি করা প্লাস্টিকের খেলনায় বিভিন্ন রঙের স্প্রে ও প্রিন্টের কাজ করছিলেন। এ সময় কারখানার সপ্তমতলার গোডাউনে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে শ্রমিকদের বরাতে জানা গেছে। সেখানে প্লাস্টিকের খেলনা, তারপিন, থিনারসহ বিভিন্ন দাহ্য রাসায়নিক থাকায় মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় আতঙ্কে শ্রমিকরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে সাকিব গোডাউনের ভেতরে আটকা পড়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান।
অগ্নিদগ্ধ মানিকসহ দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মানিককে দুপুর ১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, তার শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। অপর আহত শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি, পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি এবং সদর দপ্তরের একটি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কিনা, কিভাবে আগুনের সূত্রপাত এবং ভবনটিতে শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কিনা—তদন্তে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



