আইন পেশার সনদ নিয়ে আইন পেশার বাইরে চাকরি, ব্যবসা বা অন্য পেশায় নিয়োজিত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া আবেদনকারী হয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।
রিটে দ্বৈত পেশা বা ব্যবসায় নিয়োজিত আইনজীবীদের শনাক্ত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বা সতর্কতা কমিটি গঠন এবং এ বিষয়ে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ জন্য বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইন পেশার বাইরে অন্য পেশা বা ব্যবসায় নিয়োজিত আইনজীবীদের সনদ বা লাইসেন্স সমর্পণ করতে বলা এবং তা না করলে সংশ্লিষ্ট পেশা বা ব্যবসা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও আরজি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া বলেন, শুনানির জন্য চলতি সপ্তাহে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে রিটটি উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে, আইন পেশার সনদ নিয়ে আইন পেশার বাইরে চাকরি, ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল আদেশের ৭০ অনুচ্ছেদ ও আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর ওই আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আইন একটি মহান ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এ পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব। তবে অনেক আইনজীবী সনদ নেওয়ার পর আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, ঠিকাদারি, আদম ব্যবসা, গাড়ির শোরুম, পরিবহন ব্যবসা, ইট-বালু-সিমেন্টের ব্যবসা এবং মোবাইল ফোনের ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশ এজেন্টের দোকান পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এ ছাড়া, কেউ কেউ আইন পেশার সনদ সমর্পণ না করেই বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, ওষুধের ফার্মেসি এবং মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন চাকরি করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড বার কাউন্সিলের আইন ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এতে আইন পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
ওই আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় গত ১২ আগস্ট বার কাউন্সিলের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি করা আবেদন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া।



