মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
১২ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

প্রবাসীর স্ত্রী ও ছাত্রদল কর্মীকে ৭ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন

প্রবাসীর স্ত্রী ও ছাত্রদল কর্মীকে ৭ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২১ পিএমসর্বশেষ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২১ পিএম
প্রবাসীর স্ত্রী ও ছাত্রদল কর্মীকে ৭ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে ইতালি প্রবাসীর স্ত্রী ও ছাত্রদল কর্মীকে মারধর করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় প্রায় সাত ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গজারিয়া গ্রামের বেপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন- গজারিয়া গ্রামের ইতালি প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী জ্যোতি বেগম (৩৩) এবং একই এলাকার ইউনিয়ন ছাত্রদল কর্মী সাইম মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া গ্রামের বেপারি বাড়ির বকুল মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়াকে সাগরপথে লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর জন্য একই এলাকার বাসিন্দা লোকমানের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিয়ে ইয়াছিন ইতালিতে পৌঁছান।

তবে ইয়াছিনের পরিবারের দাবি, তাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে লিবিয়া প্রবাসী লোকমানের কাছে তারা টাকা পাওনা বলে দাবি করেন।

এ টাকা আদায়ের জন্য লোকমানের বোন জ্যোতি বেগম ও তার বন্ধু সাইম মিয়াকে সোমবার দুপুর ২টার দিকে ভৈরব বাজারে যাওয়ার পথে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ইয়াছিনের বাবা বকুল মিয়া ও চাচা গোলাপ মিয়া তাদের বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা বিষয়টি ভৈরব থানার ওসিকে জানালে তাদের উদ্ধারে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে প্রথম দফায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে পারেনি। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ আবার ঘটনাস্থলে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে পৌঁছলে তাদের সহযোগিতায় রাত ১০টার দিকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ভুক্তভোগী ছাত্রদল কর্মী সাইম মিয়া বলেন, ‘লিবিয়া প্রবাসী লোকমান আমার বন্ধু। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ভৈরব বাজারে যাওয়ার পথে বন্ধুর বোনসহ আমাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে মারধর করে ঘরে আটকে রাখা হয়। তারা বলে, লোকমানকে বলো আমাদের পাওনা টাকা দিয়ে তোমাদের ছাড়িয়ে নিতে।

জ্যোতি বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে ভৈরবে যাওয়ার পথে আমাকে ও আমার ভাইয়ের বন্ধুকে আটকিয়ে মারধর করে সাত ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তারা যদি টাকা পেয়ে থাকে, তাহলে সেই টাকা আমার ভাইয়ের কাছে পাবে। আমার ভাই তো চুক্তি অনুযায়ী তাদের ছেলেকে ইতালিতে পাঠিয়েছে। তাহলে কিসের টাকা পাওনা?

এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিকালে থানা থেকে উদ্ধার করতে কারা গিয়েছিলেন, তা আমি জানি না। রাতে দায়িত্বে যোগ দিয়ে ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরে আটকে রাখা দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি।

তিনি জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ