মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
১২ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

দেয়ালে মাথা ফাটিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে

দেয়ালে মাথা ফাটিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২৭ পিএমসর্বশেষ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২৭ পিএম
দেয়ালে মাথা ফাটিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে

চট্টগ্রামের পটিয়ায় দেয়ালে মাথা ফাটিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করা হয় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে। পরকীয়ার সন্দেহে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্বামী নুর উদ্দিন।

মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন। আদালতের বিচারক তাররাহুম আহমেদ আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

নিহতের মামা জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় তানিয়ার। তখন তানিয়া বলেছিলেন, মা আমি কাল বাড়িতে আসব। উত্তরে মা বলেছিলেন, আয় মা। সপ্তাহখানেক পরই মা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তানিয়ার। সে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

জানা যায়, পাঁচ বছরের প্রেম শেষে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজিরপাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে নুর উদ্দিনের (২৫) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে তানিয়ার (২০)। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই মোনাফ হাজিরপাড়ায় তানিয়াকে দেয়ালে মাথা ফাটিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করেন স্বামী নুর উদ্দিন। মৃত্যুকালে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তানিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শুরু হয় পারিবারিক কলহ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তানিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো।

তানিয়ার বাবা মোহাম্মদ কামাল অভিযোগ করেন, গত ঈদে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করেন। রমজান মাসে তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দিলেও সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক দাবি করা হয়। চাহিদামতো দিতে না পারায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তানিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছিল। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বিয়ের পর যৌতুকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ প্রত্যাশা করেননি। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, তানিয়ার স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ