হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ লোকজন।
কিশোরগঞ্জে পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা চাইতে গিয়ে মো. ইমরান নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাতিয়ার চর গ্রামের আবদুস শহীদের ছেলে। সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাশের প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন তিনি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরানের সঙ্গে আবু কালামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবু কালাম ইমরানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন ইমরান। পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ইমরান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ বিশ্বরোডের নতুন জেলখানা মোড়ে মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত আবু কালাম ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সামান্য টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে একজন মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ইমরান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জেলখানা মোড়ে মানববন্ধন করেন।
তিনি আরও বলেন, মানববন্ধন শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ইমরান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।



