মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
১২ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের অবস্থান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের অবস্থান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৯ পিএমসর্বশেষ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের অবস্থান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারের অনুমতি পেলে ‘ক্রসফায়ার’ করার বিষয়ে পুলিশপ্রধানের বক্তব্য সরকারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

আজ মঙ্গলবারসংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এই নীতি সমুন্নত রাখা জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার।

গতকাল ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।

পরে পুলিশ সদর দপ্তর এক ব্যাখ্যায় জানায়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে কথা বলতে চাননি। আইন মেনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও এক বিবৃতিতে বলেছে, আইজিপির বক্তব্যকে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে বুঝতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশন আইজিপির বক্তব্যকে দৃঢ় ও আপসহীনভাবে আইন প্রয়োগের সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্য, আত্মরক্ষার অধিকারসহ আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বিধা ছাড়াই কাজ করতে পারা উচিত।

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন কর্মকর্তা নিহত ও ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে আইজিপির বক্তব্যে সরকারের অনুমতির যে প্রসঙ্গ এসেছে, বিবৃতিতে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

বাংলাদেশের সংবিধান বা প্রচলিত আইনে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার সরকারের নেই।

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) গঠনের পর এ ধরনের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করে। ২০০৭–০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ২ হাজার ৯৫৭ জন নিহত হয়েছেন।

বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা এবং ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ