রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বালুভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ভাইবোনসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত ১৭ জন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ছয় থেকে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা তালুকদারপাড়া গ্রামের মোজাফফর রহমান (৪৪) ও তার ছোট বোন গোলাপী বেগম (৩৬), কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আলমগীর হোসেন (৪০) এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসচালকের সহকারী আপেল মিয়া (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জের শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে মাজার মসজিদের সামনে বালুভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা খান এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলেই বাসের এক যাত্রী মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাসচালকের সহকারী ও আরও দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম চারজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছয় থেকে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ডাম্প ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যাত্রীদের বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বাসটি খুব দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছিল। চালকের চোখেও ঘুম ছিল বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।



