নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার এবং মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ বুধবার নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলমসংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ১৪ অক্টোবর শাকিলের ওপর হামলার পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলাটি জেলা ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গতরাতে গুরুদাসপুরে শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজার পর সেখানে বক্তব্য রাখেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। তিনি নিহতের পরিবারের জন্য ২০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি, এই ক্ষতির কোনো বিকল্প নেই।
জানাজা শেষে ক্ষুদ্ধ জনতা চাঁচকৈড় বাজারে একটি শপিংমলে ভাঙচুর চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজা।
তিনি বলেন, ‘শপিংমলে ভাঙচুরের ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন তিনি। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান শাকিল।
এ ঘটনায় গতকাল নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।



