তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং শিগগির এ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আজ বুধবার বিকেলে রংপুর নগরীর ডিসির মোড় এলাকায় শ্যামাসুন্দরী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই, যেন দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা মানুষ আগামী ১০০ বছর ধরে এর সুফল ভোগ করতে পারেন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার পরামর্শকদের মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে প্রকল্পের ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং কাজ শুরুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় গঙ্গার পানিবণ্টনসংক্রান্ত ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করতে পারে, তারা শুধু বাংলাদেশের সরকারের নয়, এ দেশের ২০ কোটি মানুষেরও বন্ধু।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ওই সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফারাক্কা চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পরে রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নকাজ তিনি নিজেই তদারকি করছেন। বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শ্যামাসুন্দরী খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে খালের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি করা হবে। যারা খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন, তাদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নকাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রংপুর সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজটি করছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।



