সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলার চলাচলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। সেই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস রুটে ধীরগতির এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা নীতিমালায় এই কথা জানানো হয়েছে। নীতিমালা দেশের সব সিটি করপোরেশনের জন্য প্রযোজ্য।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ই-রিকশা কোনোভাবেই মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাসের মূল রুট, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর, ফুটপাত বা এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারের পূর্বানুমোদন ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে সিটি করপোরেশনগুলো নির্ধারণ করবে তাদের এলাকায় কতগুলো ই-রিকশা চলবে। তারা যৌথভাবে নির্দিষ্ট রুট, চলাচলের জোন ও গাড়ির রং নির্ধারণ করে দেবে।
একটি নির্দিষ্ট জোনের জন্য অনুমোদিত ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না। একইভাবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
নতুন নিয়মে দুই যাত্রীর ই-রিকশার জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর রিকশার জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো নবায়নে বার্ষিক ফি দিতে হবে যথাক্রমে ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। আর ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা।
প্রতিটি নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নিবন্ধিত গাড়িগুলোর জন্য একটি ইউনিক কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর, নম্বরপ্লেট ও গাড়ির বিস্তারিত তথ্যসহ একটি ব্লু বুক দেওয়া হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
সব ই-রিকশাকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। বর্তমান রিকশাগুলো কাঠামোগত পরিবর্তনের পর যদি ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং ট্রাফিক বিভাগের সনদ পায়, তবে সেগুলোরও অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে হবে। নকশা অনুযায়ী এসব রিকশা চালক ছাড়া দুই বা সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহন করতে পারবে।
ই-রিকশা সড়কের বাম লেনে চলতে পারবে। রিকশা চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভুলভাবে ওভারটেক বা নিয়ম ভেঙে লেন পরিবর্তন করা যাবে না। ৪০ ডেসিবলের বেশি মাত্রার হর্ন বাজানো যাবে না। এছাড়া যাত্রীদের হাতব্যাগ ছাড়া ই-রিকশায় অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতিটি রিকশায় গতি পরিমাপের মিটার থাকতে হবে। নিবন্ধনের দিন থেকে একটি ই-রিকশার আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। এরপর এর নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু সিটি করপোরেশন অনুমোদিত নির্দিষ্ট গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্টেই রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে।
এই নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা আগের ই-রিকশা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।



