শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের ১১ দিন পর মামলা নিল পুলিশ

বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের ১১ দিন পর মামলা নিল পুলিশ...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫১ এএমসর্বশেষ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫১ এএম
বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের ১১ দিন পর মামলা নিল পুলিশ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সৎ ভাসুর ও চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে বিয়ের ১৬-১৭ দিনের মাথায় ১৭ বছরের কিশোরী বধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯ অক্টোবরের এ ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের কাছে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই নববধূ।

বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নির্দেশনা নিয়ে থানায় গেলেও প্রথমে মামলা গ্রহণ করেননি বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন। উলটো ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বাদীকেই সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে ভয় দেখিয়েছেন। অবশেষে ঘটনার ১১ দিন পর শুক্রবার মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নে ওই কিশোরী বধূকে ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যান তার সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদা (৩৮)। পরে বাড়ি ফেরার পথে ইমরান ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাকে বাকেরগঞ্জ থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়। তবে থানায় গিয়ে মামলা করতে না পেরে ফিরে আসেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওসি আদিল হোসেন তাকে বলেন, ‘আপনার কোনো প্রমাণ নেই। জামাকাপড়সহ গোসল করার কারণে প্রমাণ নষ্ট হয়ে গেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করতে না পারলে আপনারই সাত বছরের সাজা হবে।’ এছাড়া অভিযুক্ত ইমরানকে নিয়ে ‘দুলাভাই তো এমনিতেই শ্যালিকার অর্ধেক ভাগ পায়’-এমন আপত্তিকর মন্তব্য করে ওসি তার সঙ্গে মশকরা করেন বলেও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বলেন, বিচার চাইতে গিয়ে যদি পুলিশের কাছ থেকেই এমন কথা শুনতে হয়, তাহলে আদৌ বিচার পাব কি না, তা নিয়েই শঙ্কিত। ভুক্তভোগীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে ওসি আদিল হোসেন বলেন, গত দুই-এক দিন আগে এক নারী তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। ধর্ষণের কোনো আলামত দেখাতে পারেননি। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে কিছুক্ষণ পর জানাবেন বলে চলে যান। এতে আমাকে দায়ী করে লাভ কি।

বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। ওসির মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি মামলা না নিয়ে উলটো ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ