শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

মালয়েশিয়া যেতে ৬-৭ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ

মালয়েশিয়া যেতে ৬-৭ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২২ এএমসর্বশেষ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২২ এএম
মালয়েশিয়া যেতে ৬-৭ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আজ ৩১ অক্টোবর থেকে দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিবাসন ব্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কর্মী পাঠাতে দেড় লাখ টাকার কিছু বেশি খরচের প্রাথমিক হিসাব থাকলেও বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যেতে কর্মীদের কাছ থেকে ৬ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বেসরকারি এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজের ধরন অনুযায়ী কর্মীদের কাছে ৬ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। কারখানার কাজে ৭ লাখ, চিকিত্সাসেবায় সাড়ে ৭ লাখ এবং নির্মাণ খাতে ৬ লাখ টাকা চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো এজেন্সি পাসপোর্ট জমা নেওয়ার সময় ১ থেকে ২ লাখ টাকা অগ্রিম নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের নিয়োগপর্বে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে খরচ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা হতে পারে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত ধারণা, সরকারের নির্ধারিত কোনো ব্যয় নয়। তিনি জানিয়েছেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথমে কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এরপর বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমেও নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে। ১ নভেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শেষ করার আশা রয়েছে। মেডিক্যাল পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে প্রথম কর্মীদের যাত্রা শুরু হতে পারে।

মালয়েশিয়া যেতে প্রায় ৬-৭ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যেটি অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে অভিযোগ করেছেন। এমন প্রশ্নে এজেন্সিগুলো জানায়, ‘এখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা আছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রাইস কম-বেশি হতে পারে। তবে সম্প্র্রতি ৩-৪ লাখ টাকায় মালয়েশিয়ার ভিসা করানো অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুনের মতে, বিদেশে কাজ পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হলে কর্মীদের ঋণের বোঝা বাড়ে এবং তারা শোষণের ঝুঁকিতে পড়েন। তাই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এজেন্সিগুলো যা বলছে :এজেন্সিগুলোর ভাষ্য, প্রাইভেট এজেন্সিগুলোকে ভিসা করাতে মালয়েশিয়াকেই অনেক অর্থ দিতে হচ্ছে। বাইরে অনেক কিছু মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে জানান তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি একটি এজেন্সির মালিক জানায়, একটি নিয়োগাদেশের বিপরীতে মালয়েশীয় এজেন্টকে তাদের প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত কমিশন দিতে হয়। বিমানভাড়া ও মেডিক্যাল পরীক্ষার খরচ যোগ করলে একজন কর্মীর ব্যয় ৬ লাখ টাকা ছাড়াতে পারে। ঐ এজেন্সির কাছে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সরকারি হিসাবের সঙ্গে কর্মীদের প্রকৃত ব্যয়ের ব্যবধান আগেও বড় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ভেরিতের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে বাংলাদেশি কর্মীরা গড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মীদের ব্যয়ের এই গড় হিসাব আগের সরকারি নির্ধারিত ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর সময়ও কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নতুন নিয়োগব্যবস্থায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সরাসরি ২৫টি মূল রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করেছে। আরো ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে। সহযোগী এজেন্সিগুলো মূল এজেন্সি অথবা বোয়েসেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেবে। অর্থাত্ ৩১২টি এজেন্সি সরাসরি স্বাধীনভাবে কর্মী পাঠাতে পারবে না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে। যে ১০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে, তাদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত করা হবে। আমরা খুব শিগিগর সার্কুলার দেব। কোনো প্রকার দালাল ছাড়াই সরাসরি বোয়েসেলে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য জেনে সঠিক পদ্ধতিতে কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে।

মেডিক্যালের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি ৮ হাজার টাকা :জানা যায়, মালয়েশিয়ায় যেতে মালয়েশিয়া অনুমোদিত নির্দিষ্ট মেডিক্যালে সেন্টারে মেডিক্যাল সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়া অনুমোদিত প্রায় ১৫টি মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে। মেডিক্যালের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি ৮ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ ৩১ অক্টোবর থেকে সরকার অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে করা কোনো পরীক্ষার প্রতিবেদন অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণ করা হবে না। অনুমোদিত কেন্দ্রের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের কথা রয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, কিছু দালাল ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনহীন মেডিক্যাল পরীক্ষার কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দিতে এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টার ও এজেন্সির অনুমোদন যাচাই না করে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দিতে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ