বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় 'বন্ধু' হিসেবে পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
আজ শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে নৌ-পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত এসপি মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর আমরা তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছি।'
গত ২৮ অক্টোবর টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ২ দিন পর শুক্রবার গভীর রাতে তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তথ্য নিশ্চিত করে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, 'ছেলেকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন বাবা।'
এদিকে, মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম না দিলেও, তাহসিফ নিখোঁজের রাতে দীপ তার সঙ্গে ছিলেন এবং তদন্তের সময় বিষয়টি নজরে আসায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, নৌ-পুলিশের যে ইউনিট তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেছিল, তারাই এ মামলা তদন্ত করবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পরে গতকাল শুক্রবার দিনভর তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই। সেটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।
মামলার পর শুক্রবার রাতেই দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই।
২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীতে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ সাউরিকে এক যুবকের সঙ্গে দেখা যায়। তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাহসিফকে।
ওই যুবক তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপ বলে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে তাহসিফের 'জুনিয়র বন্ধু' আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েতুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের জানান, পিবিআই উত্তর বিভাগের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয়।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন তাহসিফ। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, তাহসিফের মা বারবার ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি।



