এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আনন্দে মেতে থাকার কথা ছিল পরিবারটির। কিন্তু দিনটি এসেছে শোক নিয়ে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের বাড়িতে এখন শুধু কান্না।
ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় এসেছিল রাকিবুল ইসলাম (১৭)। উঠেছিল শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। গত মাসে তাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়।
রাকিবুলের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ছোট ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাকিবুলকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নেন। সেখান থেকে তাকে শুক্রাবাদের একটি বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করতে কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় নেওয়া হয়। পরে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়।
অপহরণের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবুলকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠায় মামুন। ওই ভিডিও দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাকে আর ফিরে পায়নি।
দুদিন পর ঢাকায় এসে ভাইয়ের নিখোঁজের বিষয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জহিরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।
গত ৫ অক্টোবর শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন নীলফামারীর ডিমলার ওই সুপারিবাগান থেকে রাকিবুলের কার্টনবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খাদেমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একজন গরিব কৃষক মানুষ। ছেলেটাকে এত কষ্ট করে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াইছি। এর পেছনে আমাদের পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের একটা আশা আমাদের ছিল—যে ছেলেটা মানুষ হয়ে এই সংসারের হাল ধরবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেটা কী অপরাধ করছিল, যে নির্মমভাবে তার জীবনটা দিতে হলো? আমাদের জীবনে একটা অন্ধকার নেমে আসছে। আর কোনো আশা নাই আমাদের। তারপরও আমি চাই আমার সন্তান হত্যার বিচারটা যেন হয়। কোনো কারণে যেন ন্যায়বিচার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা না হয়।



