সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তাদের আটক ও গ্রেপ্তার করা হবে বলে সতর্ক করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
তিনি বলেন, উপযুক্ত প্রমাণ না থাকলে এবং অতীতে অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড থাকলে আইনগতভাবে সোপর্দ করা হবে।
কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে গতকাল শনিবার ‘নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন’ শীর্ষক এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আবদুল কুদ্দুছ বলেন, ‘ছিনতাই, মাদক, এগুলোতে যারা জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হবে।
তিনি বলেন, ‘এই সময়টা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সময়। এই সময়ে, এই বয়সে—কিশোর যারা, তারা যেন নষ্ট হয়ে না যায়, তারা যেন এই মাদকের অন্ধকার চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়, তারা যেন এ রকম ইভটিজার হয়ে সমাজে বেড়ে না ওঠে, তার জন্য আমাদের প্রতিরোধমূলক অ্যাকশন হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সন্ধ্যার পরে স্কুলপড়ুয়া, কলেজপড়ুয়া কোনো ছেলেপেলেকে যদি পাওয়া যায়, তাকে ধরা হবে। তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
‘উপযুক্ত প্রমাণ যদি না থাকে, যদি তার প্রিভিয়াস (ক্রিমিনাল) হিস্ট্রি থাকে, তাকে আইনগতভাবে সোপর্দ করা হবে এবং অভিভাবকদের দায়ী করা হবে; কেন আপনার ছেলে সন্ধ্যার পরে রাস্তায় আড্ডা দিতে যাচ্ছে?’ যোগ করেন তিনি।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটা যদি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ আসলে অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।
অপরাধ দমনে পুলিশের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে এর আগে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। সে যুদ্ধ চলমান আছে।
তার যোগদানের তিন মাসে মাদকদ্রব্য উদ্ধার দ্বিগুণের বেশি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরো রেঞ্জে মাদকের উদ্ধার প্রায় তিন গুণ হয়েছে এবং আসামি গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
‘তিন মাসে পুরো রেঞ্জে ১১টি জেলায় ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে,’ জানান তিনি।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল কুদ্দুছ প্রশ্ন তোলেন, প্রতিবেশী কোনো নারীর ওপর সহিংসতার ঘটনাকে কি শুধু পারিবারিক বিষয় হিসেবে দেখা উচিত, নাকি এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার দায়িত্ব সমাজেরও রয়েছে?
একইভাবে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এবং তরুণদের মাদকাসক্তি এখন আর নির্দিষ্ট কোনো পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ সমস্যা নয়; বরং এগুলো সামগ্রিক সামাজিক উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে, বলেন তিনি।
ইয়াবার প্রভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকাসক্তরা নিজেদের নেশার খরচ জোগাতে ঘরের জিনিসপত্র এবং বাবা-মায়ের টাকা ও গয়না চুরি করতে শুরু করেছে।
‘এসব উৎস শেষ হয়ে গেলে তারা রাস্তায় ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মাদকের টাকা জোগাড় করতে মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করে না,’ বলেন তিনি।
মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছেলে-মেয়েদের হাতে বাবা-মা খুনের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না।
‘সব দায়িত্ব কি আমরা পুলিশের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকব? একজন নাগরিক হিসেবে আমার কি কোনো দায়িত্ব নেই? দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই সামাজিক আন্দোলনে আমাদের অংশ নেওয়া উচিত নয় কি,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।



