মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

সাগর-রুনি হত্যা: ১৩১ বারেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন

সাগর-রুনি হত্যা: ১৩১ বারেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:১০ পিএমসর্বশেষ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:১০ পিএম
সাগর-রুনি হত্যা: ১৩১ বারেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন

‘একের পর এক সরকার বদলাচ্ছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয় না। আর কার কাছে বিচারের জন্য যাব?

প্রায় ১৫ বছর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। ছেলে ও পুত্রবধূকে হত্যার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭৪ বছর বয়সী সালেহা মনির। জীবন সায়াহ্নে এসে এখন তার সবচেয়ে বড় চাওয়া, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার যেন তিনি দেখে যেতে পারেন।

১৩১ বার সময় নির্ধারণ করেও আজ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি তদন্তকারীরা। আগামী ৫ নভেম্বর ১৩২তম বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য হয়েছে।

দীর্ঘদিনেও তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ দুই পরিবারের সদস্যরা। বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও বিচার পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে তাদের।

সাগরের মা সালেহা মনির গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোন মা তার সন্তানের হত্যার বিচার চাইবেন না? ঘটনাটা তো একেবারেই স্পষ্ট ছিল। এত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ কেউ কিছু বের করতে পারল না।

ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে যেন বিচার দেখে যেতে পারি, এটাই আমার আশা।

সালেহা বলেন, টেলিভিশনে তিনি দেখেছেন, তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে টাস্কফোর্সের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

তিনি বলেন, ‘অনেক আগে পিবিআইয়ের লোকজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান। তদন্তে বারবার সময় চাওয়ায় টাস্কফোর্সের সমালোচনা করেন তিনি।

রোমান বলেন, ‘টাস্কফোর্সের বারবার ছয় মাস করে সময় বাড়ানোর আবেদন আসলে তদন্ত বিলম্বিত করার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। এতে প্রমাণ হয়, তদন্তে তারা কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।

তবে হাইকোর্টের একটি সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এবং টাস্কফোর্সের প্রধানকে তলব করা হয়েছে।

রোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইসিটি প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। প্রসিকিউটর যে তথ্য পেয়েছেন, তার ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থা কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি থাকতে হবে।

সাগর সরওয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক। তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় তাদের হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। তখন তার বয়স ছিল পাঁচ বছর।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির এবং তানভীর রহমান খান।

তানভীর ও মিন্টু বর্তমানে জামিনে আছেন। পলাশ পলাতক। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মামলা হওয়ার পর প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিবি তদন্তকাজ পরিচালনা করে।

এরপর ২০১২ সালের এপ্রিলে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। বর্তমানে বাহিনীটির নাম স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত র‌্যাব তদন্তের দায়িত্বে ছিল।

হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর মামলাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে এই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

এদিকে গত ১৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেয় টাস্কফোর্স।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের তদন্তকারীরা ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছিলেন।

টাস্কফোর্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংরক্ষিত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এসব আলামত ও তথ্য হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তবে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গতকাল রোববার যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ