ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল বৃহস্পতিবার দুপুরে। ফোনের ওপাশ থেকে ২৪ বছরের রনি ফকির বলেছিলেন, রাশিয়ায় প্রচণ্ড শীত, চারদিকে ড্রোন হামলা। আব্বা আমার জন্য দোয়া করবেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সেটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথা। সন্ধ্যায় খবর আসে, ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে রনি।
রনি ফকির গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড়াশী ইউনিয়নের সিতারকুল গ্রামের নুরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে। রনিসহ গোপালগঞ্জের তিন যুবক গত ৭ মে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়া যান। পরিবারগুলোর অভিযোগ, একটি কোম্পানিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
রনির বাবা, নূর ইসলাম ফকির সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সে বলেছিল, রাশিয়ায় প্রচণ্ড শীত, ব্যাপক ড্রোন হামলা হচ্ছে। আমার কাছে দোয়া চেয়েছিল। এশার নামাজের সময় তার সঙ্গে থাকা আলামিন নামের আরেক বাংলাদেশি ফোন করে জানায়, ড্রোন হামলায় রনি মারা গেছে।
তিনি জানান, কর্মী ভিসায় তার ছেলেকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। এ জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে সামরিক বাহিনীর গাড়িতে তুলে চুল কেটে ইউনিফর্ম পরানো হয়।
নূর ইসলাম ফকির আরও বলেন, ‘রনি চার ভাই বোনের সবার বড়, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে জমি বন্ধক রেখে ঋণ করেছিলাম। এখনো সেই ঋণ শোধ করতে পারিনি। রাশিয়া যাওয়ার মাত্র ছয় মাস আগে রনির বিয়ে হয়। এখন সরকারের কাছে একটাই দাবি, ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনুন। শেষবারের মতো মুখ দেখে নিজের হাতে দাফন করতে চাই।
মা মাফিজা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে যুদ্ধক্ষেত্রে ছেলের সঙ্গে থাকা আলামিন নামের এক বাংলাদেশি ফোন করে ড্রোন হামলার কথা জানায়। তিনি বলেন, রনিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে তিনিই রনির মৃত্যুর খবর জানান।
গোপালগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড়াশি ইউনিয়নের সিতারকুল গ্রামের রনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।



