বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

রক্তপাত বন্ধ করতে পারেননি চিকিৎসক, প্রসূতির মৃত্যু

রক্তপাত বন্ধ করতে পারেননি চিকিৎসক, প্রসূতির মৃত্যু...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪২ পিএমসর্বশেষ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪২ পিএম
রক্তপাত বন্ধ করতে পারেননি চিকিৎসক, প্রসূতির মৃত্যু

রাজশাহীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক কোনোমতেই ওই প্রসূতির শরীরের কাটা স্থান থেকে রক্তপাত বন্ধ করতে পারেননি।

রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে জয়নব বানু (২৯) নামে ওই নারীর অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল অস্ত্রোপচারে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত জয়নব বানুর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে। স্বামীর নাম আশরাফুল ইসলাম। ৬ বছর আগে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন জয়নব। দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের সময় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর তাকে বাঁচানো যায়নি। ওই ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে নানা সময় ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জয়নবের স্বামী আশরাফুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জয়নব বানুকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানকার পরিচালক ডা. শামীমা খাতুন তুলিকা বিকাল ৪টায় জয়নবকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেন। সেখানে সিজারের মাধ্যমে জয়নব কন্যাসন্তান প্রসব করেন। পরে বিকাল ৫টার দিকে জয়নবকে ওটি থেকে বের করা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই তার রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিল না। পরে আশরাফুল স্ত্রীর জন্য রক্ত এনে দেন।

এরপর তাকে রক্ত দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় ডা. শামীমা খাতুন তুলিকা আবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নবকে ওটিতে নেন। শুরু হয় দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার। এরমধ্যেই ৬ ব্যাগ রক্ত ও দুই ব্যাগ প্লাজমা দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে ডা. তুলিকা বাইরে এসে জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে তার জরায়ু কেটে ফেলতে হবে। স্বজনেরা এতেও সম্মতি দেন। পরে চিকিৎসক তার জরায়ু কেটে ফেলেন। এরপর রাত আড়াইটার দিকে জয়নবকে ওটি থেকে বের করে ডা. তুলিকা জানান, রোগীকে এখনই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে। কিন্তু তাদের ক্লিনিকে আইসিইউ সেবা নেই।

তাই ওই রাতেই জয়নবকে শহরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, জয়নবের অবস্থা ভালো নয়। এ অবস্থা থেকে বেঁচে ফেরা কঠিন। আইসিইউতে নিয়েও জয়নবকে রক্ত ও প্লাজমা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১২ ব্যাগ রক্ত ও ৬ ব্যাগ প্লাজমা দেওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

পরে বুধবার (৪ নভেম্বর) বেসরকারি ওই হাসপাতাল থেকে জয়নবকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জয়নবকে রাখা হয় পোস্ট সার্জিক্যাল আইসিইউতে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জয়নবের মৃত্যু হয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পর রক্তনালির ভেতরে ব্যাপকভাবে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে রক্তপাত বন্ধ হয় না। এ ধরনের রোগীকে বাঁচানো যায় না। তবে জয়নবের ক্ষেত্রে কী হয়েছিল তা অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। তাদের এখানে রোগীকে শেষ মুহূর্তে আনা হয়েছিল।

জয়নবের স্বামী আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল অপারেশনের কারণে তার স্ত্রীর এমন মৃত্যু হয়েছে। তবে তার সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুকন্যা সুস্থ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

টি নিয়ে কথা বলতে ডা. তুলিকার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই ক্লিনিকে গিয়ে তার কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। এ সময় ক্লিনিকটিতে কোনো রোগীকে চিকিৎসাধীন দেখা যায়নি।

ওই ক্লিনিকটির আরেক পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, কেন রোগীর মৃত্যু হয়েছে তা ডা. তুলিকা বলতে পারবেন। তবে কথা বলার জন্য তাকে পাওয়া যাবে না।

তিনি জানান, জয়নবের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে স্বজনেরা অনেক চিৎকার করেন। এ জন্য ভর্তি থাকা অন্য রোগীরা রামেক হাসপাতালে চলে গেছেন। জয়নবের মৃত্যু একটি দুর্ঘটনা বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ জন্য স্বজনদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

টি নিয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। এখনই শুনলেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন। ভুল অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ