এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল)-এর বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণাকালে আসামিপক্ষ থেকে বিচারকের নিকট সময়ের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকাল পৌনে ৯টার দিকে ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যায়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে গেলে উক্ত স্কুলের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান (২০) শিশুটিকে স্কুলের অফিস কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পূর্বে স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের এক শিক্ষিকা শিশুটিকে ক্লাস থেকে ডেকে উক্ত অফিস কক্ষে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নারত অবস্থায় বাসায় ফিরে তার মাকে বিষয়টি অবগত করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর মা গাছা থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য শেষে আদালত শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে জারি করা সাজা পরোয়ানা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর সেলিনা বেগম।






