শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

লাইফস্টাইল ও জীবনধারা

পর্ব ২: সন্তানের রিপোর্ট কার্ড খারাপ হওয়ার আগেই যেসব লক্ষণ চিনে নেওয়া জরুরি

পর্ব ২: সন্তানের রিপোর্ট কার্ড খারাপ হওয়ার আগেই যেসব লক্ষণ চিনে নেওয়া জরুরি...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৫ এএমসর্বশেষ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৫ এএম
পর্ব ২: সন্তানের রিপোর্ট কার্ড খারাপ হওয়ার আগেই যেসব লক্ষণ চিনে নেওয়া জরুরি

সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হলে অনেক অভিভাবক প্রথমেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কেউ বকাঝকা করেন, কেউ অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ দেন, আবার কেউ দ্রুত একজন গৃহশিক্ষক নিয়োগ করেন। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়-সন্তান আসলে কেন পিছিয়ে পড়ছে?

শিশুর একাডেমিক ফলাফল হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ার পেছনে সব সময় পড়াশোনায় অমনোযোগ দায়ী নয়। কখনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা, কখনো মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, কখনো ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ কিংবা শেখার বিশেষ কোনো সমস্যা এর কারণ হতে পারে।

তাই একজন সচেতন অভিভাবকের কাজ শুধু পরীক্ষার নম্বর পর্যবেক্ষণ করা নয়, বরং সন্তানের আচরণ, পড়াশোনার অভ্যাস এবং শেখার অগ্রগতির পরিবর্তনগুলোও খেয়াল করা।

এটি শিশুদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। অনেক শিশু অনর্গল বই পড়তে পারে, কিন্তু পড়া শেষ হলে গল্পের মূল বক্তব্য, চরিত্রের ভূমিকা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যাখ্যা করতে পারে না।

শিক্ষাবিজ্ঞানে এই দক্ষতাকে বলা হয় Reading Comprehension।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো গল্প পড়ে শিশুকে যদি প্রশ্ন করা হয়-গল্পের প্রধান চরিত্রটি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল? সে কীভাবে সমস্যার সমাধান করল?-তখন অনেক শিশু সঠিক উত্তর দিতে পারে না। কারণ শব্দ পড়তে পারা এবং পড়া বিষয় বুঝতে পারা এক বিষয় নয়।

করণীয়: অভিভাবকরা প্রতিদিন সন্তানকে কিছু সময় বই পড়তে দিতে পারেন। পড়া শেষে তাকে গল্পটি নিজের ভাষায় বলতে বলুন। গল্পের মূল চরিত্র, ঘটনা এবং শিক্ষণীয় বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করুন। এতে শিশুর পড়ার পাশাপাশি চিন্তা ও বিশ্লেষণ করার দক্ষতাও উন্নত হতে পারে।

অনেক শিশু হোমওয়ার্ক শেষ করাকে পড়াশোনার প্রধান লক্ষ্য মনে করে। ফলে তারা প্রশ্ন ভালোভাবে না পড়েই দ্রুত উত্তর লিখে ফেলে। কেউ আবার বাবা-মায়ের সাহায্য ছাড়া কোনো কাজ করতে চায় না। কিছু শিশু ইন্টারনেট বা অন্যের খাতা দেখে উত্তর লিখে কাজ শেষ করে। এতে খাতা পূর্ণ হলেও প্রকৃত শেখার ঘাটতি থেকে যায়।

অভিভাবকদের বুঝতে হবে, হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করা এবং বিষয়টি শেখা এক নয়।

করণীয়: সন্তানকে প্রশ্ন করুন, 'এই অঙ্কটি কীভাবে করলে?', 'এই উত্তরটি কেন লিখলে?' কিংবা 'নিজের ভাষায় বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে পারবে?' এতে বোঝা যাবে সে বিষয়টি সত্যিই বুঝেছে, নাকি শুধু উত্তর মুখস্থ করেছে।

অনেক অভিভাবক মনে করেন, সন্তান কয়েক মিনিট দেরিতে স্কুলে পৌঁছালে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু প্রতিদিনের এই সামান্য দেরি দীর্ঘমেয়াদে বড় শিক্ষাগত ঘাটতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দিনের প্রথম ক্লাসে যদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানো হয়, তাহলে দেরিতে আসা শিক্ষার্থী নিয়মিত সেই পাঠের কিছু অংশ হারায়।

এর ফলে নতুন বিষয় বুঝতে সমস্যা হয়, ক্লাসের নির্দেশনা মিস হয় এবং পরবর্তী কাজেও পিছিয়ে পড়তে পারে।

করণীয়: স্কুলের সময়সূচি মেনে চলা, পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বাসা থেকে বের হওয়া এবং সন্তানের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

শিশুরা অনেক সময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানলেও সেটি বিস্তারিতভাবে লিখতে পারে না। যেমন, প্রশ্নে দুটি উদাহরণ চাওয়া হলে সে একটি লিখে। ব্যাখ্যা করতে বলা হলে শুধু একটি বাক্য লিখে কাজ শেষ করে। এতে বোঝা যায়, শিশুর জ্ঞান থাকলেও সেটি লিখিতভাবে প্রকাশ করার দক্ষতা তৈরি হয়নি।

করণীয়: অভিভাবকরা বাসায় ছোট ছোট অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রতিদিন কোনো একটি বিষয় নিয়ে পাঁচটি বাক্য লিখতে বলা যেতে পারে। সপ্তাহে এক দিন একটি ছোট গল্প লিখতে উৎসাহিত করা যায়। তবে বানান বা বাক্য গঠনে ভুল হলেই শিশুকে নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। বরং ভুলগুলো বুঝিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।

শিশু পড়তে বসে বারবার উঠে যাচ্ছে, একটি কাজ শেষ করতে অস্বাভাবিক বেশি সময় নিচ্ছে কিংবা নির্দেশনা শুনেও কাজ শুরু করতে পারছে না-এ ধরনের আচরণকে অনেক সময় অভিভাবকরা অলসতা বলে ধরে নেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বিষয়টি অলসতা নয়।

ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, উদ্বেগ, দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা মনোযোগের বিশেষ অসুবিধা শিশুর শেখার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কিছু শিশুর Dyslexia বা নির্দিষ্ট ধরনের Learning Difficulty থাকতে পারে। এতে বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও পড়া, বানান বা লিখতে বিশেষ অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

করণীয়: সন্তানকে বারবার বকাঝকা না করে তার সমস্যার ধরন বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। প্রয়োজন হলে স্কুলের বিশেষজ্ঞ, শিশু মনোবিজ্ঞানী কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

একজন শিক্ষক প্রতিদিন শিশুর ক্লাসরুমের আচরণ, পড়াশোনার অগ্রগতি এবং সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা পর্যবেক্ষণ করেন। অন্যদিকে অভিভাবক বাসায় তার পড়াশোনার অভ্যাস, ঘুম, আচরণ এবং মানসিক পরিবর্তন দেখতে পান। এই দুই ধরনের পর্যবেক্ষণ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে শিশুর প্রকৃত সমস্যা বোঝা সহজ হয়।

তাই Parent-Teacher Meeting বা অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠককে আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।

কোন বিষয়ে সন্তান সবচেয়ে ভালো করছে?

কোন বিষয়ে তার দুর্বলতা রয়েছে?

হোমওয়ার্ক ও অ্যাসাইনমেন্ট নিয়মিত জমা দিচ্ছে কি না?

পড়ার সময় সে কী ধরনের সমস্যায় পড়ছে?

বাড়িতে কী ধরনের অনুশীলন করলে তার উন্নতি হতে পারে?

শিক্ষকের কোনো নেতিবাচক মন্তব্য শুনে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক আচরণ না করে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন।

একটি পরীক্ষার নম্বর দিয়ে শিশুর বুদ্ধিমত্তা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। কেউ গণিতে ভালো, কিন্তু লেখায় দুর্বল। কেউ আবার পড়া ভালো বোঝে, কিন্তু পরীক্ষার সময় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। আবার কোনো শিশু নতুন বিষয় শিখতে অন্যদের তুলনায় একটু বেশি সময় নেয়। প্রত্যেক শিশুর শেখার গতি ও ধরন আলাদা।

তাই অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজের আগের অবস্থার সঙ্গে বর্তমান অগ্রগতি তুলনা করা উচিত। গত মাসে যে শিশু একটি অনুচ্ছেদও ভালোভাবে লিখতে পারত না, সে যদি এখন পাঁচটি বাক্য লিখতে পারে, সেটিও উন্নতি। সেই অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

সন্তানের শিক্ষাজীবনে সমস্যার লক্ষণগুলো যত আগে শনাক্ত করা যায়, তত সহজে সঠিক সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব। রিপোর্ট কার্ড হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করুন।

মনে রাখতে হবে, একজন সচেতন অভিভাবক শুধু সন্তানের ভালো ফলাফলের অপেক্ষায় থাকেন না, বরং ভালো ফলাফল অর্জনের পথে সে কী শিখছে, কোথায় আটকে যাচ্ছে এবং কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখেন।

পর্ব ২: টয়োটা RAV4 কতটা নির্ভরযোগ্য?

আমি আর আমার কয়েকজন ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বন্ধু এবং বান্ধবী একই সঙ্গে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি, একসাথে আড্ডা দিই, খাওয়া দাওয়া করি, হ্যাং আউট করি, ইসলামে কি এটি অ্যালাউড আছে?

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ