ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকে স্ট্রাইক থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে চাইছিল। সব ফিল্ডার নিয়ে আসছিল কাছে। তাওহিদ হৃদয় সুযোগটা নিলেন দুটো বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। প্রথমে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন, পরের বলে চার। হৃদয় চলে গেলেন ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ১০ রানের দূরত্বে। চা বিরতির ইঙ্গিত মিলল, দুই দল চলে গেল প্যাভিলিয়নে।
লাঞ্চের পর থেকে চা বিরতি পর্যন্ত গল্পটা স্রেফ তাওহিদেরই। সেঞ্চুরির পর থেকে তার ব্যাট চওড়া হয়েছে। তবে সময়ে সময়ে রয়ে-সয়েও খেলেছেন। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে তিনি একাই খেলেছেন ১১৮ টি ডেলিভারি। এই সময়ে তিনি রান তুলেছেন ৯০, যার ১০টি এসেছে শেষ দুই বলে।
সেশনটা একেবারে নিষ্কলুষই হতে পারত বাংলাদেশের। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে সামনে ঝুঁকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে যদি না স্টাম্পড হতেন তাইজুল ইসলাম। চা বিরতির ৪ ওভার আগে ১১৭ রানের জুটি ভেঙেছে তাতে। এই জুটিতে তাইজুলের অবদান ছিল ২২।
তাইজুল একাধিকবার পেয়েছেন ভাগ্যের সহায়তাও। তবে তাতে তার এই ইনিংসের মাহাত্ম্য কমে না একটুও। উইন্ডিজের হাতে বড় লিড তুলে দেওয়ার শঙ্কাটা যে তাওহিদের সঙ্গে তার এই জুটিতেই মিলিয়ে গেছে, সঙ্গে যোগ হয়েছে এখন বাংলাদেশের লিডের আশাও।
আর ৩৯টা রান তুলতে পারলেই সেটা করে ফেলতে পারবে বাংলাদেশ। আর এই রান তোলার পথে দলকে সবচেয়ে বড় আশাটা দেখাচ্ছেন তাওহিদ। টেল এন্ডারদের নিয়ে ব্যাট করার ব্যাকরণ নতুন করে শিখিয়ে তিনি নিজেও চলে গেছেন ম্যাজিকাল এক ডাবল সেঞ্চুরির দুয়ারে।
২০০ যদি শেষমেশ ছুঁয়েই ফেলেন, তাহলে বিরল এক কীর্তিই গড়ে ফেলবেন। নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে ড্যাডি সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। তবে সেটাকে ডাবলে রূপ দিতে পারেননি কেউই। সেটা করা থেকে আর ১০ রানের দূরত্বে তিনি। দিনের শেষ সেশনের শুরুতেই নিশ্চয়ই সে অর্জনটা গড়ে ফেলতে চাইবেন তাওহিদ।






