শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

বিনোদন

২৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি, অবশেষে মুখ খুললেন আশীষ বিদ্যার্থী

২৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি, অবশেষে মুখ খুললেন আশীষ বিদ্যার্থী...

স
সুমাইয়া আক্তার· বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৫১ পিএমসর্বশেষ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
২৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি, অবশেষে মুখ খুললেন আশীষ বিদ্যার্থী

বলিউডের অত্যন্ত চেনা মুখ সব্যসাচী অভিনেতা আশীষ বিদ্যার্থী বর্তমানে নেটপ্রভাবী। একটা সময় বলিউড, তেলুগু, মালায়ালাম, টালিউড—এমনকি ঢালিউডেও আধিপত্য বিস্তার করে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সেই সব্যসাচী অভিনেতা ৫৫ বছর বয়সে ২৪ বছরের দাম্পত্যজীবনে ছেদ পড়েছিল। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা সামলাতে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার ওপর দ্বিতীয়বার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েও শুনতে হয়েছিল নানা কটাক্ষ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের সেই কঠিন অধ্যায় নিয়ে এবার মুখ খুললেন আশীষ বিদ্যার্থী। জানালেন জীবনে সুখী হওয়ার জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

অভিনেত্রী রাজোশী বড়ুয়ার সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয়েছিল এ অভিনেতার। তাদের এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন তারা। যদিও বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের মে মাসে তার দ্বিতীয় বিয়ের পর। ২০২৩ সালের ২৫ মে কলকাতায় আসামের উদ্যোক্তা রুপালি বড়ুয়ার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্তমানে তাদের একসঙ্গে সময় কাটানো, ঘুরতে যাওয়া, দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা এক কাপ চা নিয়ে গল্প করাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ষাটের কোঠায় পৌঁছে অভিনেতা বুঝেছেন, সঙ্গীর সঙ্গে একসঙ্গে পথচলার গুরুত্ব অনেক বেশি। তবে নতুন সম্পর্কে দুজনের নিজস্ব পরিচয় ও অভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি বলে মনে করেন আশীষ বিদ্যার্থী। সম্পর্ক মানে একে অপরকে বদলে ফেলা নয়; বরং নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রেখেই একসঙ্গে জীবন কাটানো।

এ অভিনেতা বলেন, প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার সময়টা তার কাছে অত্যন্ত যন্ত্রণার ছিল। ২৪ বছরের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিজেকে পরাজিত মনে হতো তার। যে সম্পর্কে জীবনের এতটা সময় এবং আবেগ বিনিয়োগ করেছিলেন, একমুহূর্তে যেন সবকিছুই অর্থহীন হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, সেই সময়ের মানসিক যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা ভীষণ কঠিন। তবে ঠিক কেন প্রথম দাম্পত্যে ইতি টেনেছিলেন, তা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চাননি আশীষ বিদ্যার্থী। বিষয়টিকে একান্ত ব্যক্তিগত বলেই জানান তিনি। এ অভিনেতা বলেন, এ নিয়ে আলোচনা করে কারও কোনো লাভ হবে না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যে, বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।

যদিও বিচ্ছেদের পরও স্বস্তি মেলেনি অভিনেতার। বরং দ্বিতীয়বার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। সমাজের একাংশের পাশাপাশি পরিচিতদের মধ্যেও অনেকে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কেউ পরামর্শ দিয়েছিলেন, নতুন করে বিয়ে না করে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলেই ভালো হতো। আবার কেউ বলেছিলেন, এবার ছেলের বড় হয়ে ওঠার দিকে মন দেওয়া উচিত। জীবনের এ পর্যায়ে নতুন করে সংসার পাতার প্রয়োজন কী?

এসব মন্তব্যের জবাবও দিয়েছিলেন আশীষ বিদ্যার্থী। তিনি বলেন, পরিচিতদের বলতে হয়েছিল— তার হয়ে যেন কেউ অবসরের চিঠি লিখে না দেন। অর্থাৎ জীবনের বাকি দিনগুলো কীভাবে কাটাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার নিজেরই।

এ সব্যসাচী অভিনেতা বলেন, মানুষ জীবনে ভেঙে পড়তেই পারেন। কিন্তু সেই ভাঙা টুকরোগুলো জুড়ে নতুন করে বাঁচার অধিকারও প্রত্যেকের রয়েছে। কারও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা নিয়ে ঠাট্টা করার বা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিচার করার অধিকার অন্য কারও নেই। বয়স যাই হোক না কেন, প্রত্যেকেরই সুখী হওয়ার অধিকার রয়েছে। তার জন্য সমাজের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমাইয়া আক্তার

বিনোদন প্রতিবেদক

বিনোদন ও জীবনযাপন বিভাগের প্রতিবেদক।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ