শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

প্রদীপের আলোয় ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন রংপুরের কুমারপল্লিতে

প্রদীপের আলোয় ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন রংপুরের কুমারপল্লিতে...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৪ পিএমসর্বশেষ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
প্রদীপের আলোয় ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন রংপুরের কুমারপল্লিতে

আগামীকাল হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি। উৎসবকে সামনে রেখে রংপুর অঞ্চলের কুমারপল্লিগুলোতে এখন কর্মচাঞ্চল্য। প্রদীপের আলোয় নিজেদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন বহু কুমার পরিবার।

রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের তিন হাজারের বেশি কুমার পরিবার মাটির প্রদীপ তৈরি করেন। স্থানীয়ভাবে এগুলো ‘দিয়ার’ নামে পরিচিত। দীপাবলির চাহিদা মেটাতে এক মাস ধরে প্রদীপ তৈরি চলছে। একেকটি পরিবার ২০ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত প্রদীপ তৈরি করে।

কুমারদের কাছে দীপাবলি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি তাদের বছরের অন্যতম বড় আয়ের মৌসুমও।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানের ১০০টি প্রদীপ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের প্রদীপের দাম ১৮০-২০০ টাকা এবং উন্নত মানের প্রদীপ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লালমনিরহাটের আদিতমারীর সারপুকুর গ্রামের কুমার প্রভাত চন্দ্র পাল (৬৫) এবার প্রায় ৭৫ হাজার প্রদীপ তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাইকারেরা প্রদীপ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও হাটে বিক্রি করছি। আশা করছি, এবার ভালো লাভ হবে।

সদর উপজেলার মোগলহাট কুমারপাড়ার বিষাদ চন্দ্র পাল (৫৫) জানান, আকারভেদে তারা তিন ধরনের প্রদীপ তৈরি করেন। বর্তমানে ১০০টি প্রদীপ তৈরিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হয়। তিনি ইতিমধ্যে ৬০ হাজার প্রদীপ তৈরি করেছেন।

রংপুরের তারাগঞ্জের পালপাড়ার প্রবীণ মৃৎশিল্পী অজয় চন্দ্র পাল (৭৬) জানান, একসঙ্গে তিন থেকে পাঁচ হাজার প্রদীপ চুল্লিতে পোড়ানো যায়। আগুন নিভে যাওয়ার ১২ ঘণ্টা পর প্রদীপগুলো বের করতে হয়। তার পরিবার এবার ৭৫ হাজার প্রদীপ তৈরি করেছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর পালপাড়ার সুরেশ চন্দ্র পাল (৫০) নিজে ৬৫ হাজার প্রদীপ তৈরির পাশাপাশি পাইকারি সরবরাহের কাজও করেন। তিনি এবার দুই লাখ প্রদীপ বিক্রির লক্ষ্য নিয়েছেন।

রংপুরের মাহিগঞ্জ কুমারপাড়ার টুটুল চন্দ্র পাল (৫৫) জানান, দীপাবলিকে কেন্দ্র করে প্রতিটি কুমার পরিবার ৬০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করে। বছরের অভাবের সময় এই টাকা কাজে লাগে।

তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তাদের গ্রামের ৫৫টি কুমার পরিবারের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই এখন আর মাটির কাজ করে না। অনেকেই পেশা বদলেছেন।

রংপুর নগরীর গুপ্তপাড়ার বাসিন্দা অশোক সরকার (৭০) বলেন, তিনি প্রতিবছর ৭০০-৮০০ প্রদীপ কেনেন। এবার এক হাজার প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা আছে তার।

পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় আড়াই লাখ হিন্দু পরিবার বসবাস করে। দীপাবলি উপলক্ষে প্রতিটি পরিবার ৩০০ থেকে ৮০০টি পর্যন্ত প্রদীপ কেনে। ফলে উৎসব ঘিরে মাটির প্রদীপের বিশাল বাজার তৈরি হয়, যার ওপর নির্ভর করে হাজারো মৃৎশিল্পী পরিবারের জীবিকা।

রংপুর বিভাগীয় পুরোহিত সোসাইটির আহ্বায়ক ধীমান ভট্টাচার্য বলেন, প্রদীপ জ্বালানো শুধু আলোকসজ্জা নয়, এটি প্রার্থনারও অংশ। এর মাধ্যমে প্রয়াত আত্মার শান্তি এবং সাম্য ও কল্যাণের প্রার্থনা করা হয়। কুমাররাও নিজেদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপাবলি উদযাপন করেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ