Home Blog Page 55

প্রধান উপদেষ্টা নিজে ক্লিয়ার করেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে: রিজওয়ানা

0

নিজস্ প্রতিবেদকঃ নির্বাচনের সময় ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বিভিন্ন বক্তব্য আসছে সেবিষয়ে সরকারের অবস্থান কী, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত ইসিকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলের হিসেব-নিকেশ আছে, নিজস্ব রাজনীতি আছে। এটার সাথে সরকারের অবস্থা বদলের কোনো সম্পর্ক নেই।

দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিদেশে মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর ব্যাপারে কোনো লিখিত নির্দেশনা আছে বলে জানা নেই। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদেও কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।তবে এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা একসাথে করার বিধান নেই – – নির্বাহী কর্মকর্তা

0

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাংবাদিকতার অপব্যবহার করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক সমাজে এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। সম্প্রতি তারা সপরিবারে কক্সবাজার ভ্রমণে গেলে এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হলে ঘটনাটি সবার সামনে আসে।

বিস্তারিত অভিযোগ

সরেজমিনে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মো. শাহিন এবং ফারহান হোসেন নান্নু গৌরনদীর সাবেক পৌর মেয়র হারিছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। শাহিন গোপালগঞ্জের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং নান্নু আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় এই ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। হারিছুরের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা স্থানীয় শিক্ষক ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। প্রায় আড়াই বছর আগে হারিছুরের তদবিরে শাহিন গোপালগঞ্জ থেকে গৌরনদীর নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন এবং নান্নু ৮ বছর আগে গরঙ্গল দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক পদ পান।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে তারা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। এর ফলে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।

কক্সবাজার ভ্রমণ এবং তদন্ত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহিন ও সহকারী শিক্ষক ফারহান হোসেন নান্নু সাংবাদিকতার আড়ালে সপরিবারে কক্সবাজার ভ্রমণে যান। এ সময় তারা কক্সবাজারের ‘রিম রিসোর্ট’-এ অবস্থান করেন। ঘটনার দিন প্রধান শিক্ষক শাহিন বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তিনি কক্সবাজারে ছিলেন। একইভাবে, নান্নু অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিলেও পরিবারের সঙ্গে সেই ভ্রমণে অংশ নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে নান্নু তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন দেখান।

অন্যান্য বিতর্কিত অভিযোগ

  • নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাধিকবার অস্বাভাবিক চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়েও এলাকায় বিতর্ক আছে।
  • অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক শাহিন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় গৌরনদী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অঘোষিতভাবে সহকারী হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ঢুকে নিজের মেয়েকে উত্তরপত্র বলে দেন। তবে কেন্দ্র সচিব মো. ওয়ালি উল্লাহ জানান, শাহিনের মেয়ে পরীক্ষার্থী হওয়ায় তাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র অভিযোগ করে, শাহিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন দ্বিগুণ আদায় করেন। গত দুই বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণেও ৩-৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
  • গৌরনদী উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, শাহিন সভাপতি হওয়ার জন্য তাকে একাধিকবার চাপ দিয়েছেন এবং এর জন্য রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তা আর সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারহান হোসেন নান্নুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক মো. শাহিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। সাংবাদিকদের কাজ অনিয়ম দেখা নয়।”

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি জানান, সরকারি নীতিমালায় শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা একসঙ্গে করার নিয়ম নেই। শাহিনের ছুটি না নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের অভিযোগ তদন্তের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নান্নুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অপশক্তি রোধে জাতীয় ঐক্য জরুরি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রের নানা সমীকরণ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে-এমন ঘোষণার পর অপশক্তিগুলো নির্বাচন বানচাল করতে চতুর্মুখী অপতৎপরতা শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী এবং পতিত আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা নাশকতা সৃষ্টিসহ পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির মতো ক্ষেত্র তৈরির অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে ছদ্মবেশে থাকা পতিত আওয়ামী লীগের দোসররা সক্রিয় রয়েছে।

এ অবস্থায় এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হলে সবার আগে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এটি হলো অন্যতম পূর্বশর্ত। আর দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে এ মুহূর্তে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য নির্বাচন পর্যন্ত আগামী ৬ মাস ভালোভাবে পার করতে সরকারের পাশে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তিকে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে। সরকারকেও নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠকে বসতে হবে। সৃষ্ট সংকট নিরসনে যুগান্তরের কাছে এভাবে সমাধানের উপায় সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষক।

তারা বলেন, একটি মহল তো এখন প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ জোরদার করবে। এটি হলো তাদের বড় শক্তি। এজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা প্রতিনিয়ত গুজব ছড়াতে ব্যস্ত থাকবে। ফলে সৃষ্ট সংকট ও বহুমুখী ষড়যন্ত্র কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তিকে সত্যিকারার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ক্ষমতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে নিজেরা বিভেদে জড়িয়ে পড়লে বিপদ অনিবার্য।

তারা যুগান্তরকে বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এক বছর পর সেই ঐক্যে ফাটল ধরেছে। যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। অপরদিকে নির্বাচনের সময় নিয়ে কারও অপত্তি না থাকলেও কয়েকটি দল বিতর্কিত কিছু দাবি তুলছে। এমনকি কোনো কোনো নেতা নির্বাচন হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে দুই ধরনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। একটি হচ্ছে-এটি তাদের ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হতে পারে। কারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন ভাগাভাগি নিয়ে পর্দার আড়ালে হয়তো কিছু দেনদরবার করতে চাইছে ওই সব দল। দ্বিতীয়ত, হতে পারে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেশি সুবিধা করতে পারবে না, তারা নির্বাচন ছাড়া ভিন্ন পথে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে প্রকারান্তরে লাভবান হচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। তাদের ষড়যন্ত্রের পথকে এভাবে মসৃণ করে দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময় তিনটি নির্বাচন হয়েছিল। সেসব নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়েছে। কাজেই নির্বাচনহীন অবস্থা থেকে মুক্তির সমাধান হচ্ছে-একটি সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন। যে নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে বলে সরকার ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার এলেই এসব সংকটের সমাধান হবে। তাই ৫ আগস্টের পর দেশে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, আবারও সেই ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য সব দলের উচিত হবে নির্বাচনমুখী হওয়া এবং ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নেওয়া।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনসহ তার আগে দেশে যতগুলো জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সেখানেও এমন ষড়যন্ত্র ছিল। কিন্তু ওই সব নির্বাচন সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই হয়েছে-এটাই বাস্তবতা। তাই এসব নতুন কিছু নয়। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়েও নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো চক্রান্তেই কাজ হবে না। তবে নির্বাচন কেন জরুরি তা জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে। আর সেভাবেই তাদের সব কর্মকাণ্ড করা উচিত। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্য জরুরি। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে এই দেশের মানুষ বহুবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সামনেও সেই ঐক্য থাকবে বলে আমার ধারণা।’

সোমবার নওগাঁ জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে (ভার্চুয়ালি) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দেশ যাতে গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্র চলছে আগামী জাতীয় নির্বাচন যাতে না হয়, সেজন্যও। তিনি বলেন, বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা যাতে বাস্তবায়ন না হয়, ভন্ডুল হয়ে যায়-সেজন্য ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।

সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনও ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের বড় দল বিএনপি ৪২টি মিত্র দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন বর্জন করা আরও ২২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করেছে দলটি। এসব বৈঠকে নির্বাচনকে সামনে রেখে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা যায়-সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে। গত ১৬ বছরের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলেই সংঘটিত হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থান। আমরা বারবার লড়াই করে বিজয়ী হলেও সে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবারও যদি দুর্নীতি ও অনাচার থেকে আমরা জাতিকে রক্ষা করতে না পারি তা হলে আমাদের সব অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে। এজন্য অবশ্যই আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য প্রয়োজন। যে ঐক্য জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতই থাকুক না কেন-তারা কেউই অগণতান্ত্রিক দল নয়, সবাই গণতান্ত্রিক দল। কাজেই নির্বাচনের ব্যাপারে কারও কোনো বাধা আছে বলে মনে করি না। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা সব কিছুই নির্বাচনের পক্ষে আছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে পতিত স্বৈরাচারের অনুসারীরা সক্রিয় রয়েছে। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ১৫ বছরের পতিত ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত বাতাস এখনো দেশকে অনিরাপদ করে রেখেছে। পতিত স্বৈরাচার দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এভাবে তারা সুযোগ নেওয়ার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ দলের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কোনো অবস্থাতেই পতিত ফ্যাসিবাদকে সুযোগ করে দেওয়া যাবে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার জাতীয় যুব সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা। যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে না পারে, দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে নিজেদের মধ্যে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তৈরি না হয়, তাহলে আরেকটি এক-এগারো আসবে। কারণ, ইতিহাসে এটাই দেখা গেছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর বিভেদের কারণেই ফ্যাসিবাদ বারবার সুযোগ নিচ্ছে। আমরা ফ্যাসিবাদের পতনের পর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছি এবং এটি রোধ করতে সরকার কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘন ঘন বসবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অটুট থাকবে।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মনে করেন, যে কোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। তবে ষড়যন্ত্র হলেও ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যথাসময়েই নির্বাচন হবে। এটা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওয়াদা। তিনি কারও ফাঁদে পড়ে ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না। বরং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে অযথা সময় নষ্ট না করে মাঠঘাট, গ্রামগঞ্জে গিয়ে গণমানুষের কাছে নিজের দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরে জনগণের ম্যান্ডেট আদায়ের চেষ্টা করা।

বিজয়রথেই বাংলাদেশ

0

পাক শাসনের শিকল ভেঙে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশ। সেদিন ঢাকায় নতমস্তকে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে বিশ্ব মানচিত্রে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ।

এ স্বাধীনতার কারিগর ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই বিজয়ের ৫০ বছর শেষে বাংলাদেশ উদযাপন করছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। একই সঙ্গে উদযাপন করছে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। সব আনন্দ এবার এক বিন্দুতে মিলেছে, উদযাপনে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশ হবে ‘সোনার বাংলা’। সেই স্বপ্ন পূরণে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার হাত ধরে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে নিজস্ব পথরেখায়। দেশের অভিযাত্রায় একের পর এক যুক্ত হচ্ছে সাফল্যের নতুন পালক।

Caption Caption Caption Caption Caption

গত ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশকে পরবর্তী ধাপে উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সব প্রক্রিয়া শেষ করল। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে এটি একটি সুবর্ণ অর্জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট একটি দেশেরই সাফল্য নয়, এটি জাতিসংঘের নেতৃত্বে বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের শক্তিরও প্রমাণ। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্ল্যানারি সভায় তা গৃহীত হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ গৃহীত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মানব উন্নয়ন, অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কর্তৃক ২০২০ সালের মে মাসে প্রকাশিত মেম্বার ফ্যাক্টচেক শিটের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি। এক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের উপরেই থাকছে।

বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ভারত সরকারের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৌশিক বসু বাংলাদেশের ৫০ বছরের অর্জন নিয়ে বলেছেন, এরই মধ্যে দেশটি বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সমীক্ষায় (কেস স্টাডি) পরিণত হয়েছে, যা খুব কম অর্থনীতিবিদই অনুমান করেছিলেন। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ যখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যায়, তখন অনেকেই এটিকে একটি আকস্মিক সাফল্য হিসেবে খারিজ করেছিলেন। কিন্তু তখন থেকে প্রতি বছরই পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ এবং আশ্চর্যজনকভাবে দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই সমৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৮ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে বর্তমানে দেশের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল দুই হাজার ২৪ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে তা বেড়েছে ১০ শতাংশ। মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ পাশের দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে আছে।

ক্ষুধা সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতিও বেশ। গত অক্টোবরের মাঝামাঝিতে এ সুসংবাদ আসে। কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফের যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) ১১৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৭৬তম স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ১। প্রতিবেশী নেপালের অবস্থানও ৭৬তম। তবে পাশের দেশ ভারতের অবস্থান ১০১তম, পাকিস্তানের অবস্থান ৯২তম। সবমিলিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে খাদ্যের উৎপাদন। পুষ্টিকর খাবার কেনার সক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে।

এখন মঙ্গা শব্দটি তেমনভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। আগে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা— এসব এলাকায় কার্তিক মাসে মঙ্গা প্রকট রূপ নিত। এ সময় খাবারের অভাব লেগেই থাকত। সেই অভাবের সংগ্রামে কাউকে কাউকে টিকে থাকতে হতো সেদ্ধ কচু খেয়ে। এখনও কার্তিক আসে, কিন্তু সেই মঙ্গা আর দেখা যায় না। মঙ্গাকে পাঠানো হয়েছে জাদুঘরে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কৃষকদের মধ্যে খাস জমি বিতরণ, ভর্তুকিতে সার, কীটনাশক, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করেছিলেন। শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ বর্তমানে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ফল ও সবজির উৎপাদন বেড়েছে। মাছ ও মাংস উৎপাদনে দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে।

বিশ্বে বাংলাদেশ আজ কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে আছে। দেশে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে চার কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

অস্থিতিশীলতা উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। দেশে বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। একুশে পদক পাওয়া বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত নিজের ‘সাত দশকের হরতাল ও বাংলাদেশের রাজনীতি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় ও স্থানীয় মিলে ৫৫৪টি হরতাল হয়েছিল। গত ছয় বছরে হরতাল যেন জাদুঘরে চলে গেছে। অজয় দাশগুপ্ত বলেন, হরতালসহ বিভিন্ন অস্থিরতামূলক কর্মসূচি কমে গেছে। এর কারণ দেশে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। হরতাল এ দেশে অকার্যকর হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষও অস্থিরতা চায় না।

একসময় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে যারা পরিহাস করত, তারা আজ লজ্জিত। বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ বাদ দিয়েই বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করছে পদ্মা সেতু। আগামী বছরের জুনে যান চলাচলের জন্য সেতুটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ যে নিজের পায়েই দাঁড়াতে পারে, তার প্রমাণ এ পদ্মা সেতু। সন্দেহের কুয়াশা ভেদ করে পদ্মা সেতুর একেকটি স্প্যান স্থাপন যেন বাংলাদেশের সাফল্যের বুননগাঁথাকেই মনে করিয়ে দেয়।

এদিকে, দেশে প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলের জন্য উড়ালপথ তৈরি হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে উড়াল রেলপথে মেট্রো ট্রেন চলবে আগামী বছরের বিজয় দিবসে। এটিও এগিয়ে যাওয়ার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এছাড়া, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রুটে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বমানের এক্সপ্রেসওয়ে। পাশাপাশি চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ।

আশির দশকে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে যাত্রা শুরু করে। প্রথম প্রথম সীমিত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরের তিন দশকে এগুলোর বিস্তার লাভ করে। ইপিজেডগুলো রফতানি আয়ে ভূমিকা রাখে।

তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়া অন্য সব শিল্পের বিকাশে ইপিজেডগুলোর অবদান বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ ছিল। এ বৃত্ত থেকে বের হতে শ্রমঘন শিল্প স্থাপনে সাফল্য, উচ্চ উৎপাদনশীলতা ও অধিক মূল্য সংযোজনকারী শিল্প স্থাপনের দিকে নজর দেয় বর্তমান সরকার। নেয় দেশজুড়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সাহসী উদ্যোগ।

২০১০ সালে সংসদে অনুমোদন পায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এ সময়ের মধ্যে বার্ষিক অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রফতানির প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।

গত প্রায় এক যুগ ধরে উন্নয়নের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ রয়েছে উড়ন্ত গতিতে। এ অভিযাত্রায় সাফল্যের বুননকে সমৃদ্ধ করেছে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতারা বাংলাদেশকে বিশেষ স্বীকৃতি দিচ্ছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েও বাংলাদেশ মানবিক রাষ্ট্রের অভিধা পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়েছে এ দেশে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সামনেই যেন অবস্থান করছে।

কমেছে সড়ক বেড়েছে মামলা, কমেনি দুর্ঘটনা

0

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন নাঈম হোসেন (২৭)। গত বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে বন্ধুর মোটরসাইকেলে দক্ষিণখান পশ্চিম মোল্লারটেকের বাসায় ফিরছিলেন। বিজয় সরণি মোড়ে পৌঁছতেই বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। বন্ধু গুরুতর আহত হলেও প্রাণ যায় নাঈমের।

গত ৩ ডিসেম্বর রাতে ছোট বোনকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করে ডেমরার শারুলিয়ার বাসায় ফিরছিলেন দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রুফ রিডার এমদাদ হোসেন (৬০)। মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সামনে দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন নাঈম হোসেন (২৭)। গত বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে বন্ধুর মোটরসাইকেলে দক্ষিণখান পশ্চিম মোল্লারটেকের বাসায় ফিরছিলেন। বিজয় সরণি মোড়ে পৌঁছতেই বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। বন্ধু গুরুতর আহত হলেও প্রাণ যায় নাঈমের।

গত ৩ ডিসেম্বর রাতে ছোট বোনকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করে ডেমরার শারুলিয়ার বাসায় ফিরছিলেন দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রুফ রিডার এমদাদ হোসেন (৬০)। মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সামনে দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কোভিড, নন-কোভিড দুই সেবাই চলবে মুগদা হাসপাতালে

0

আবারও করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা এসেছে রাজধানীর রোগীবহুল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও।

তবে অন্যান্য রোগীদের সংখ্যাধিক্য বিবেচনায় এখনই কোভিড ডেডিকেটেড হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আপাতত কোভিড, নন-কোভিড দুই সেবাই চলবে বলে জানানো হয়েছে।

আবারও করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা এসেছে রাজধানীর রোগীবহুল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও।

তবে অন্যান্য রোগীদের সংখ্যাধিক্য বিবেচনায় এখনই কোভিড ডেডিকেটেড হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আপাতত কোভিড, নন-কোভিড দুই সেবাই চলবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্বের ট্রাভেল ও পর্যটনকে হাতের মুঠোয় এনেছে ওটিএ

0

সারাবিশ্বে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) ট্রাভেল ব্যবসায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় গতি বাড়ছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ ব্যবসা। বাংলাদেশে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা খুব অল্প দিনেই ট্রাভেলারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই সুযোগে শুরুতেই কিছু অসাধু-সুযোগ সন্ধানীদের কবলে পড়েছে বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা। হালট্রিপ কিংবা ২৪টিকিট ডট কমের মতো অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির মতো কিছু প্রতিষ্ঠান অগ্রসরমুখী এ ব্যবসাকে নানাবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। তারপরও এগিয়ে যাওয়ার পালা।

সারাবিশ্বের লক্ষ লক্ষ হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট বুকিংয়ের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথম ট্রাভেলওয়েব ডট কম এর আবির্ভাব ঘটে। এছাড়া ১৯৯৫ সালে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে ইন্টারনেট ট্রাভেল নেটওয়ার্ক প্রথম এয়ারলাইন টিকিট বিক্রি করে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ধারণার গোড়াপত্তন করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে এক্সপেডিয়া ডট কম নামের ব্যবসায়িক সফলতার জন্য অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় দু’দশক পর বাংলাদেশে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার পরিধি বিস্তৃতি লাভ করে।

সারাবিশ্বে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) ট্রাভেল ব্যবসায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় গতি বাড়ছে। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ ব্যবসা। বাংলাদেশে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা খুব অল্প দিনেই ট্রাভেলারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই সুযোগে শুরুতেই কিছু অসাধু-সুযোগ সন্ধানীদের কবলে পড়েছে বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা। হালট্রিপ কিংবা ২৪টিকিট ডট কমের মতো অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির মতো কিছু প্রতিষ্ঠান অগ্রসরমুখী এ ব্যবসাকে নানাবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। তারপরও এগিয়ে যাওয়ার পালা।

সারাবিশ্বের লক্ষ লক্ষ হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট বুকিংয়ের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথম ট্রাভেলওয়েব ডট কম এর আবির্ভাব ঘটে। এছাড়া ১৯৯৫ সালে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে ইন্টারনেট ট্রাভেল নেটওয়ার্ক প্রথম এয়ারলাইন টিকিট বিক্রি করে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ধারণার গোড়াপত্তন করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে এক্সপেডিয়া ডট কম নামের ব্যবসায়িক সফলতার জন্য অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় দু’দশক পর বাংলাদেশে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার পরিধি বিস্তৃতি লাভ করে।

করোনার মধ্যেই ঘুরতে পারেন বিশ্বের যেসব শহরে

করোনা পরিস্থিতি এই ভালো, এই খারাপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আবারও লকডাউন ঘোষণা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। এরপরেও কিছু কিছু দেশে, কিছু শহরে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। ​তাহলে চলুন ছবির মাধ্যমে জেনে নিই, করোনার মধ্যেই ঘুরতে পারবেন বিশ্বের যেসব শহরে-

লা পাজ, বলিভিয়া। বিশ্বের সর্বোচ্চ রাজধানী, লা পাজ আন্দিজের আল্টিপ্লানো মালভূমিতে অবস্থিত। তুষার-ঢাকা ৬৪৩৮ মিটার উঁচু মাউন্ট ইলিমানির কোলে সুন্দর গোছানো একটি শহর।

করোনা পরিস্থিতি এই ভালো, এই খারাপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আবারও লকডাউন ঘোষণা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। এরপরেও কিছু কিছু দেশে, কিছু শহরে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। ​তাহলে চলুন ছবির মাধ্যমে জেনে নিই, করোনার মধ্যেই ঘুরতে পারবেন বিশ্বের যেসব শহরে-

লা পাজ, বলিভিয়া। বিশ্বের সর্বোচ্চ রাজধানী, লা পাজ আন্দিজের আল্টিপ্লানো মালভূমিতে অবস্থিত। তুষার-ঢাকা ৬৪৩৮ মিটার উঁচু মাউন্ট ইলিমানির কোলে সুন্দর গোছানো একটি শহর।

করোনা পরিস্থিতি এই ভালো, এই খারাপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আবারও লকডাউন ঘোষণা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। এরপরেও কিছু কিছু দেশে, কিছু শহরে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। ​তাহলে চলুন ছবির মাধ্যমে জেনে নিই, করোনার মধ্যেই ঘুরতে পারবেন বিশ্বের যেসব শহরে-

লা পাজ, বলিভিয়া। বিশ্বের সর্বোচ্চ রাজধানী, লা পাজ আন্দিজের আল্টিপ্লানো মালভূমিতে অবস্থিত। তুষার-ঢাকা ৬৪৩৮ মিটার উঁচু মাউন্ট ইলিমানির কোলে সুন্দর গোছানো একটি শহর।

দুবাই প্রবাসীদের জন্য বিমানের দুইটি অতিরিক্ত ফ্লাইট

ঢাকা থেকে দুবাই রুটে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানোর ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে আগেরবার ভাড়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও এবার সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ ভাড়া জানায়নি সংস্থাটি।

সম্প্রতি আসন সংকটের অজুহাতে দুবাইয়ের ৪০ হাজার টাকার একমুখী টিকিট ৮৭ হাজার, সৌদি আরবের ৪২ হাজারের টিকিট ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছিলেন প্রবাসী ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

 

ঢাকা থেকে দুবাই রুটে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানোর ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে আগেরবার ভাড়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও এবার সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ ভাড়া জানায়নি সংস্থাটি।

সম্প্রতি আসন সংকটের অজুহাতে দুবাইয়ের ৪০ হাজার টাকার একমুখী টিকিট ৮৭ হাজার, সৌদি আরবের ৪২ হাজারের টিকিট ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছিলেন প্রবাসী ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

প্রাথমিক শেষ না হতেই শিশু শ্রমিক!

0

‘ইশকুলেও যাই নাই, পড়ালেহাও করি নাই। করমু ক্যামনে? ছোডকালে ভাইরে রাকতাম। মায় কামে যাইত। আর এহন নিজেই গার্মিসে কাম করি।’

রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তির ১৫ বছরের সীমা এভাবেই তার বিদ্যালয়ে না যাওয়ার গল্প বলছিল। পোশাকশ্রমিক সীমা কখনো স্কুলে যায়নি। সীমার মা সুমি বেগম বললেন, ‘গরিবে চাইলেও পড়ান যায় না। হাজারডা অসুবিদা থাহে।’

‘ইশকুলেও যাই নাই, পড়ালেহাও করি নাই। করমু ক্যামনে? ছোডকালে ভাইরে রাকতাম। মায় কামে যাইত। আর এহন নিজেই গার্মিসে কাম করি।’

রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তির ১৫ বছরের সীমা এভাবেই তার বিদ্যালয়ে না যাওয়ার গল্প বলছিল। পোশাকশ্রমিক সীমা কখনো স্কুলে যায়নি। সীমার মা সুমি বেগম বললেন, ‘গরিবে চাইলেও পড়ান যায় না। হাজারডা অসুবিদা থাহে।’

‘ইশকুলেও যাই নাই, পড়ালেহাও করি নাই। করমু ক্যামনে? ছোডকালে ভাইরে রাকতাম। মায় কামে যাইত। আর এহন নিজেই গার্মিসে কাম করি।’

রাজধানীর হাজারীবাগ বস্তির ১৫ বছরের সীমা এভাবেই তার বিদ্যালয়ে না যাওয়ার গল্প বলছিল। পোশাকশ্রমিক সীমা কখনো স্কুলে যায়নি। সীমার মা সুমি বেগম বললেন, ‘গরিবে চাইলেও পড়ান যায় না। হাজারডা অসুবিদা থাহে।’