প্রিমিয়াম ব্যাংক এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) বরাবর চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার এবং ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ১৩০ কোটি টাকার পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর চুক্তি পেয়েছে মো. আবু নাসের সরকার (দুলাল) মালিকানাধীন প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং। দুলাল দীর্ঘদিন ধরে প্রিমিয়াম ব্যাংক পিএলসি, মতিঝিল শাখার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে আসছে এবং প্রতি বছর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে ওডি ওয়ার্ক অর্ডার ঋণ প্রদান করে। সম্প্রতি দুলাল প্রিমিয়াম ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করেই এনসিসি ব্যাংকের পান্থপথ শাখা থেকে পূর্বের ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে ১১০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা প্রিমিয়াম ব্যাংকের কাছে প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রিমিয়াম ব্যাংক মতিঝিল শাখার কর্মকর্তা ডেইলি বরিশাল-কে জানান, বিলের টাকা সরাসরি প্রিমিয়াম ব্যাংক মতিঝিল শাখায় দুলালের অ্যাকাউন্টে ঢোকার কথা ছিল, কিন্তু প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অন্য ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে, যা এই শাখাটির ক্ষতি করেছে। দুলালকে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং হেড অফিসকে সবকিছু জানানো হয়েছে। হেড অফিস থেকে নির্দেশনা এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুলালের প্রতারণার কারণে প্রিমিয়াম ব্যাংক এবার কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান করেনি, ফলে অন্যান্য ছাপাখানাগুলো ভোগান্তিতে পড়েছে।
মাতুয়াইলের একটি ছাপাখানার মালিক সাংবাদিকদের জানান, 'প্রতি বছর আমি প্রিমিয়াম ব্যাংক থেকে পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য ঋণ গ্রহণ করি। এবারও নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এবার এখনো ঋণ দেওয়া হয়নি। দুলালের প্রতারণার কারণে আমরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হব?
প্রিমিয়াম ব্যাংক মতিঝিল শাখার চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, 'সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের প্রতারণার মাধ্যমে বিল স্থানান্তরের মতো কাজের কারণে দিন দিন ব্যাংকগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং এই খাতের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব সুনামধারী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ছে।
এমতাবস্থায়, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকবে, ফলে সুনামধারী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন নির্বিঘ্নে সম্পাদন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।'



