বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

রাজনীতি

আন্তরীয় সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আন্তরীয় সরকারের আমলে মুসাম্বি, পোলাওয়ের চাল, ডিম, এলপিজি, মুরগি ও দুধসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা জনগণের পকেট থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সৃষ্টি করেছে।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৫ এএমসর্বশেষ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
আন্তরীয় সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আন্তরীয় সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মুসাম্বি কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যদিও আমদানিতে প্রতি কেজির ক্রয়মূল্য মাত্র ৮৭ টাকা, আমদানি শুল্ক, পরিবহন খরচ ও মুনাফা মিলিয়ে সর্বোচ্চ খরচ হওয়ার কথা ২১০ টাকা, ফলে খুচরা বাজারে দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। একই সময়ে পোলাওয়ের চালের দাম ১২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকায় দ্বিগুণ হয়েছে, যদিও এই চাল সম্পূর্ণরূপে দেশেই উৎপাদিত হয়। ডিমের দামও ১২০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা প্রতি ডজন হয়েছে, যদিও মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে প্রতি ডিমের দাম মাত্র ১ টাকা বাড়ার কথা, কিন্তু এখানে বেড়েছে ৫ টাকা। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারীভাবে কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত মূল্য থেকে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে এবং সম্প্রতি দুধের দামও বেড়েছে।

মুসাম্বির ক্ষেত্রে, নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমপক্ষে ২২ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে, ফলে সরবরাহ সংকটের যুক্তিটি প্রশ্নসাপেক্ষ। পোলাওয়ের চালের ক্ষেত্রে, ২০০৯ সালে রপ্তানি শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ২০২৫ সালে, তখনও এর দাম ১২০ টাকার বেশি হয়নি, যা রপ্তানিকে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখানোকে অযৌক্তিক প্রমাণিত করে। ডিমের ক্ষেত্রে, মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধির তুলনায় প্রতি ডিমের দাম মাত্র ১ টাকা বাড়ার কথা, কিন্তু এখানে বেড়েছে ৫ টাকা, যা অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এলপিজির ক্ষেত্রে, সরকার বলছে আমদানি পর্যাপ্ত, তবুও প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে, যা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ লুটের সমতুল্য।

এই পরিস্থিতিতে, এনসিআইপির নেতৃবৃন্দ ডেইলি বরিশাল-কে জানান, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ লুটের এই বন্দোবস্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা সতর্ক করে দেন, এ দেশের মানুষের জীবন নিয়ে আর কোনো অপশক্তিকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না, নির্বাচনের পর কার মদদে, কার ইন্ধনে সেই সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরী।

সরকারের দাবি সত্ত্বেও, চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ, সবজি, প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের মূল্য বেড়েছে, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৬০ টাকায় রেখে যাওয়া ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ২০০ টাকা, কয়েক দিন আগেই বেড়েছে দুধের দাম, আর এলপিজি সিলিন্ডার প্রতি ১০০০ টাকার বেশি অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের জীবন অতিষ্ঠ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে আবারও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে দেশ, যার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ